Home First Lead কাগজপত্রের জটিলতা, ভোগান্তি গৃহঋণে

কাগজপত্রের জটিলতা, ভোগান্তি গৃহঋণে

ছবি: এ আই

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: গৃহনির্মাণ ঋণ মানুষের জীবনের অন্যতম বড় বিনিয়োগ। কিন্তু বাস্তবে এই ঋণ পাওয়ার যাত্রা শুরু হয় নানা শর্ত, অস্পষ্ট নির্দেশনা এবং দীর্ঘ যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অধিকাংশ সমস্যা সৃষ্টি হয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়মব্যাখ্যার অমিল, কাগজপত্র যাচাইয়ের ধীরগতি এবং গ্রাহকের প্রতি স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকার কারণে। ফলে বহু মানুষ ঋণের আবেদন করলেও অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

রাজধানীর মুগদা এলাকার বাসিন্দা আবদুল বাছির প্রায় ছয় মাস ধরে গৃহনির্মাণ ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর তাকে তিনবার ফিরে যেতে হয়েছে। একবার বলা হয় আয় প্রমাণে ঘাটতি আছে, আরেকবার জানানো হয় জমির মানচিত্রে সংশোধন আনতে হবে। তার ভাষায়, শুরুতেই সব নির্দেশনা পরিষ্কারভাবে জানালে এত ভোগান্তি হতো না। তিনি বলেন, প্রতিবার নতুন শর্তের কথা শুনে মনে হয়েছে আবেদন প্রক্রিয়াই যেন অনিশ্চিততার মধ্যে চলছে।

উত্তরা এলাকার গৃহিণী মরিয়ম আক্তার জানান, তাদের পরিবারের সব কাগজপত্র সাজানো ছিল। ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদনও পেয়েছিলেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের যাচাই দলের পরিদর্শনে নতুন আপত্তি উঠে। তাকে জানানো হয় জমির একটি সীমানা নাকি অস্পষ্ট। তিনি বলেন, আগের ধাপে সবকিছু ঠিক বলা হলেও শেষ পর্যায়ে এসে এমন মন্তব্যে তারা হতবাক হন। এতে অনুমোদন আরও কয়েক সপ্তাহ পিছিয়ে যায় এবং পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে।

ব্যাংকের শাখা ভেদে নীতির ব্যাখ্যায় ভিন্নতা থাকাও একটি বড় সমস্যা। মতিঝিলের একটি সরকারি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একই নথি এক শাখায় গ্রহণযোগ্য হলে অন্য শাখায় তা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। এতে গ্রাহকের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং তারা বুঝতে পারেন না প্রকৃত নিয়ম কোনটি। তার মতে, নীতিমালার ভাষা অনেক ক্ষেত্রেই অস্পষ্ট থাকে, যা কর্মকর্তা এবং গ্রাহক উভয়ের জন্যই সমস্যার সৃষ্টি করে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গ্রাহকদের বেশিরভাগই নিজেরাই কাগজপত্র সংগ্রহ ও জমা দেন। তবে অনেক সময় অজ্ঞতা বা আত্মবিশ্বাসের অভাবে কিছু মানুষ পরিচিতজনের সাহায্য নেন। একজন গ্রাহক বলেন, ব্যাংকের নিয়ম বুঝতে না পারায় তিনি শুধু পরামর্শ নেওয়ার জন্য একজন পরিচিত ব্যক্তির সাহায্য নিয়েছিলেন। তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে ব্যাংক তার কাছে কোনো বাড়তি খরচ বা অনানুষ্ঠানিক সহায়তার ইঙ্গিত দেয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, কাগজপত্রের পূর্ণ তালিকা শুরুতেই গ্রাহকের হাতে তুলে দেওয়া হলে এসব হয়রানি অনেক কমে যেত। তার মতে, মাঠ পর্যায়ের যাচাই দলকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকলে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত এগোত।তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের উচিত গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ আরও স্বচ্ছ করা।

গৃহনির্মাণ ঋণ মানুষের বহু বছরের সঞ্চিত পরিশ্রমের ফল। তাই প্রক্রিয়া সহজ করা, শাখা ভেদে নিয়মের ব্যাখ্যা একীভূত করা এবং যাচাই প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা আনা জরুরি। গ্রাহকের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে প্রথম বাধা যেন অদক্ষতা না হয়, সেটাই এখন মূল প্রত্যাশা।