Home সারাদেশ  চোরাচালানের ভাগ-বাঁটোয়ারা ও আধিপত্যের জেরে ছাত্রদল কর্মীকে হত্যা

 চোরাচালানের ভাগ-বাঁটোয়ারা ও আধিপত্যের জেরে ছাত্রদল কর্মীকে হত্যা

সাদ্দাম হোসেন সাদ্দাম

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়ায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও চোরাচালানের পণ্যের ভাগ-বাঁটোয়ারাকে কেন্দ্র করে সাদ্দাম হোসেন (৩৭) নামে এক ছাত্রদল কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) গভীর রাতে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।

নিহত সাদ্দাম কান্দিপাড়ার মোস্তফা কামাল মস্তুর ছেলে। তার স্ত্রী এবং ৭ ও ২ বছরের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও দ্বন্দ্ব
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কান্দিপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দীলিপের সঙ্গে একই এলাকার সদর উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল সিকদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি চোরাচালানের মাধ্যমে আসা ভারতীয় শাড়ির একটি চালান আটক করে তারা। মূলত এই শাড়ির ভাগাভাগি নিয়েই বৃহস্পতিবার দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়।

দিনভর সংঘর্ষ ও গোলাগুলি
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কান্দিপাড়া মাদ্রাসা রোডের পপুলার প্রেসের সামনে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় ভিডিও ফুটেজে শাকিল সিকদারকে বন্দুক হাতে গুলি করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সন্ধ্যার এই গোলাগুলিতে কান্দিপাড়ার টুটুল মিয়া (৪৬), শিহাব উদ্দিন ওরফে সোয়েব (২৭) ও মো. সানজু (২২) গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া আরও অন্তত দুইজন আহত হন। গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকায় পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফারুকী বাজারের ব্যবসায়ী রবিন মিয়া কান্দিপাড়ার বাড়ির সামনে দাঁড়ালে দীলিপের অনুসারীরা তাকে মারধর করে। তাকে বাঁচাতে গেলে তার ছোট ভাই রিজন মিয়াও হামলার শিকার হন।

রাতে ডেকে নিয়ে হত্যা
নিহত সাদ্দামের বাবা মোস্তফা কামাল অভিযোগ করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সাদ্দাম বাসায় ভাত খাচ্ছিল। তখন দেলোয়ার হোসেন দীলিপ, তার সহযোগী পলাশ ও বাবুল মিয়া বাড়ি থেকে সাদ্দামকে ডেকে নিয়ে যায়। রাত দুইটার দিকে খবর পাই সাদ্দাম গুলিবিদ্ধ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে কান্দিপাড়ার শংকর সাহার বাড়ির পাশের খালপাড়ের নতুন সেতুর ওপরে গিয়ে দেখি, দুজন সাদ্দামকে টানাহেঁচড়া করে তোলার চেষ্টা করছে। তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সাদ্দামের বুকে গুলির চিহ্ন ছিল এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। ওড়না খোলার পর দেখি তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।’

সাদ্দামের বাবার দাবি, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে দীলিপ ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে হত্যা করেছে।

অভিযুক্তের বক্তব্য
হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দীলিপ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘সাদ্দাম সব সময় আমার সঙ্গে থাকত। আমি তাকে বাড়ি থেকে ডেকে আনিনি, সে আমার সঙ্গেই ছিল। পেছন থেকে শাকিল ও তার লোকজন আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আমরা দৌড়ে পালিয়ে যাই। তারাই সাদ্দামকে গুলি করে হত্যা করেছে। এখন সাদ্দামের পরিবার কেন আমার বিরুদ্ধে বলছে, তা বুঝতে পারছি না।’

পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীলিপ গ্রুপ ও শাকিল গ্রুপের বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোলাগুলি এবং মধ্যরাতে সাদ্দামকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে কে বা কারা হত্যা করেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

ময়নাতদন্তের জন্য সাদ্দামের মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ জানিয়েছেন, তারা ঘটনাটি শুনেছেন এবং খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন।