গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ঠা মার্চ পর্যন্ত মাত্র পাঁচ দিনে ঢাকা ও চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১৭৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বুধবারই ২৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়। আকাশপথ বন্ধ থাকায় নতুন কর্মীরা যেমন যেতে পারছেন না, তেমনি ছুটিতে আসা প্রবাসীরাও কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না।
এই অচলাবস্থায় অনেক কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা নিয়ে বিমানবন্দরে ও প্রবাসীদের পরিবারে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
বর্তমানে জিসিসিভুক্ত ছয়টি দেশে—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে প্রায় ৪৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আসা মোট ৭৫৯ কোটি টাকা রেমিট্যান্সের ৪৫.৪০ শতাংশই এসেছে এই অঞ্চল থেকে। বিশেষ করে রমজান মাসে প্রবাসীরা বেশি টাকা পাঠিয়ে থাকেন। এমন সময়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ সেল গঠন করেছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে, তাদের তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে মেয়াদ বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাতার ইতিমধ্যে এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়িয়েছে এবং সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের সাথেও একই ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আটকে পড়া প্রবাসীদের সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি’র (এনআরবি) পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আকামার মেয়াদ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর সরাসরি অর্থনৈতিক চাপ পড়ার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এখন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কার্যকর উদ্যোগই একমাত্র ভরসা।
আরও আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।