Home পরিবেশ শ্রীমঙ্গলে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে অজগর: এক সপ্তাহে উদ্ধার ৪টি

শ্রীমঙ্গলে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে অজগর: এক সপ্তাহে উদ্ধার ৪টি

ছবি: এ আই

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলে বনাঞ্চল ছেড়ে লোকালয়ে অজগর আসার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে উপজেলার নোয়াগাঁও ও ইছবপুর গ্রামে গত এক সপ্তাহে চারটি বিশাল আকৃতির অজগর উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সর্বশেষ শুক্রবার  সকালে একটি ধানক্ষেত থেকে বিশাল আকৃতির একটি অজগর উদ্ধার করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের প্রকোপ, খাদ্যাভাব এবং বনাঞ্চল ও জলাভূমি সংকুচিত হয়ে যাওয়াই মূলত বন্যপ্রাণীদের লোকালয়মুখী করছে।

ধানক্ষেতে বিশাল অজগর ও উদ্ধার তৎপরতা
শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে শ্রীমঙ্গলের নোয়াগাঁও ফকিরবাড়ি এলাকায় ধান কাটতে গিয়ে শ্রমিকরা একটি বিশাল অজগর দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড়। তারা সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল বনবিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সাত দিনে নোয়াগাঁও ও ইছবপুর এলাকা থেকে মোট চারটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে।

কেন বারবার লোকালয়ে আসছে অজগর?
শ্রীমঙ্গলের গ্রামগুলোতে অজগরের এমন ঘনঘন উপস্থিতি কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি পরিবেশগত বিপর্যয়ের একটি অশনি সংকেত। এই পরিস্থিতির পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা:

১. ঋতু পরিবর্তন ও উষ্ণতার খোঁজ: বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, অজগর শীতল রক্তের প্রাণী। শীতের সময় বনাঞ্চলের তাপমাত্রা কমে গেলে তারা তুলনামূলক উষ্ণ জায়গার খোঁজে লোকালয়ে চলে আসে। খড় বা ধানের গাদা তাদের জন্য উষ্ণ আশ্রয়ের কাজ করে।

২. আবাসস্থল ধ্বংস ও জলাভূমি ভরাট: বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে গ্রামীণ এলাকার ঝোপঝাড় উজাড় হচ্ছে এবং জলাভূমি ভরাট করা হচ্ছে। অজগরের স্বাভাবিক চলাচলের পথ বা করিডোরগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই তারা মানুষের বসতির কাছাকাছি চলে আসছে।

৩. খাদ্য ও পানির সংকট: মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা মির্জা মেহেদী সরোয়ারের মতে, বনাঞ্চলে প্রাকৃতিক খাদ্যের অভাব এবং পানির উৎস কমে যাওয়া বন্যপ্রাণীদের লোকালয়ে আসতে বাধ্য করছে।

পরিবেশ ও জননিরাপত্তায় ঝুঁকি
অজগর সাধারণত বিষধর না হলেও এর বিশাল আকার এবং শক্তি সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, আতঙ্কের বশবর্তী হয়ে অনেক সময় স্থানীয়রা সাপ মেরে ফেলার চেষ্টা করেন, যা বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শ্রীমঙ্গলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বনবিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থল সংরক্ষণ, জলাভূমি ভরাট রোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা না গেলে এই সংঘাত আরও বাড়বে, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করবে।