বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এখন দেশের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের এই সন্তান কেবল একজন ঝানু রাজনীতিববিদই নন, বরং দেশের আধুনিক পুঁজিবাজারের অন্যতম রূপকার হিসেবেও সমাদৃত।
পুঁজিবাজারের প্রতি অঙ্গীকার ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
নির্বাচনের ঠিক আগে পুঁজিবাজার নিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্যগুলো বিনিয়োগকারীদের মাঝে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছিল। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছিলেন:
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: পুঁজিবাজারে সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং কারসাজি চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা হবে তার অন্যতম অগ্রাধিকার।
কাঠামোগত সংস্কার: বাজারের গভীরতা বাড়াতে বহুজাতিক ও বড় সরকারি কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলেন তিনি।
চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি যেভাবে আধুনিক এক্সচেঞ্জের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, আজ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগানোর সময় এসেছে। তার হাত ধরেই সিএসই দেশের পুঁজিবাজারে প্রথম স্বয়ংক্রিয় লেনদেন ব্যবস্থা চালু করেছিল।
চাতক পাখির মতো তাকিয়ে বিনিয়োগকারীরা
বর্তমানে পুঁজিবাজার যখন একটি দীর্ঘস্থায়ী সংকটকাল পার করছে, তখন বিনিয়োগকারীরা
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন। একজন সফল ব্যবসায়ী ও সাবেক চিটাগাং চেম্বার সভাপতির পাশাপাশি সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে তার ওপর সবার অগাধ আস্থা। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, তিনি পুঁজিবাজারের প্রতিটি রন্ধ্র চিনেন এবং জানেন কীভাবে আস্থার সংকট দূর করতে হয়।
গত ১৫ বছরের ত্যাগ ও বর্তমান দায়িত্ব
গত ১৫ বছর দলের রাজপথের লড়াই এবং নীতি নির্ধারণী ক্ষেত্রে তার অবদান দল ও দেশের মানুষের কাছে তাকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে তার দক্ষতা তাকে বর্তমান মন্ত্রিসভার সবচেয়ে শক্তিশালী সদস্যদের একজন করে তুলেছে।
সিএসই-কে ‘আইসিইউ’ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
দেশের পুঁজিবাজারের ক্রান্তিলগ্নে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) বর্তমান অবস্থাকে অনেকে ‘আইসিইউ’-র সাথে তুলনা করছেন। লেনদেনের খরা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে সিএসই তার জৌলুস হারিয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস, সিএসইর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীই পারেন এই প্রতিষ্ঠানটিকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলতে। বর্তমান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে তিনি সিএসই-র আধুনিকায়ন, কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং ডিরাইভেটিভস মার্কেটের মতো নতুন উইন্ডো খোলার মাধ্যমে বাজারকে গতিশীল করার কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। সিএসই-কে একটি শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানের এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা,
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর হাত ধরেই দেশের পুঁজিবাজার তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে এবং এটি প্রকৃত অর্থেই দেশের অর্থনীতির দর্পণ হয়ে উঠবে।
businesstoday24.com-এর সাথে থাকুন। আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে কমেন্ট করুন এবং আমাদের ফলো করুন।