বিনোদন ডেস্ক: বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাস লিখতে গেলে যে নামটিকে কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, তিনি চার্লি চ্যাপলিন। আজ থেকে বহু বছর আগে, যখন সিনেমায় কথা বলার প্রযুক্তি আসেনি, তখন কেবল অঙ্গভঙ্গি আর চোখের ভাষায় তিনি জয় করেছিলেন গোটা বিশ্ব। ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি একাধারে অভিনেতা, পরিচালক ও সুরকার হিসেবে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছেন, যা আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে গবেষণার বিষয়।
চিরচেনা ‘দ্য ট্র্যাম্প’ ও মানবিকতার গল্প
চ্যাপলিনের সৃষ্টি করা ‘দ্য ট্র্যাম্প’ চরিত্রটি সিনেমার পর্দায় কেবল হাস্যরসের খোরাক ছিল না, বরং এটি হয়ে উঠেছিল মানবিকতার এক অনন্য প্রতীক। ঢিলেঢালা প্যান্ট, ছোট কোট, বড় জুতো, মাথায় হ্যাট আর হাতে ছড়ি—এই অদ্ভুত বেশভূষার মানুষটি হাসির আড়ালে সমাজের গভীর ক্ষতগুলোকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতেন। তাঁর অভিনয়ে ছিল ছন্দ ও আবেগের এক নিখুঁত মিশ্রণ। কখনো তিনি প্রহসনের মাধ্যমে সমাজের অসঙ্গতিকে ব্যঙ্গ করেছেন, আবার কখনো নীরব কান্না দিয়ে দর্শকদের হৃদয়ে আঘাত করেছেন।
সেলুলয়েডের কালজয়ী দলিল
মূকচলচ্চিত্রের যুগে চ্যাপলিন উপহার দিয়েছেন ‘সিটি লাইটস’, ‘মডার্ন টাইমস’, ‘দ্য কিড’-এর মতো কালজয়ী সব সিনেমা। যান্ত্রিক সভ্যতার যাঁতাকলে পিষ্ট মানুষের হাহাকার কিংবা স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে ‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’-এর মতো সাহসী পদক্ষেপ—তাঁর প্রতিটি কাজই ছিল সময়ের চেয়ে এগিয়ে। পরিচালক হিসেবেও তিনি ছিলেন অনন্য। ছবির গল্প, চিত্রনাট্য থেকে শুরু করে আবহ সঙ্গীত—সবকিছুতেই থাকত তাঁর নিজস্ব হাতের জাদুকরী ছোঁয়া।
ডিজিটাল যুগেও সমান প্রাসঙ্গিক
চলচ্চিত্র বোদ্ধারা মনে করেন, বর্তমানের ফোর-কে রেজোলিউশন আর গ্রাফিক্সের যুগেও চ্যাপলিনের আবেদন বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং সংলাপ ছাড়াই যে কত গভীর আবেগ প্রকাশ করা যায়, তার শ্রেষ্ঠ পাঠ্যবই তিনি। মৃত্যুর এত বছর পরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সিনেমার ছোট ছোট ক্লিপগুলো যখন ভাইরাল হয়, তখন বোঝা যায়—প্রকৃত শিল্পের কোনো মৃত্যু নেই।
হাসি আর কান্নার অদ্ভুত এক মায়াজাল বিস্তার করে চার্লি চ্যাপলিন আজও রয়ে গেছেন বিশ্ব চলচ্চিত্রের আকাশে এক ধ্রুবতারা হয়ে। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি শুধুই একজন অভিনেতা নন, বরং এক অবিস্মরণীয় অনুপ্রেরণা।










