Home Second Lead সক্ষমতা বেশি, পণ্য কম: বৈশ্বিক শিপিং খাতে চলছে অসম যুদ্ধ

সক্ষমতা বেশি, পণ্য কম: বৈশ্বিক শিপিং খাতে চলছে অসম যুদ্ধ

২০২৫ সালের তুলনায় প্রধান রুটগুলোতে জাহাজ ভাড়া কমেছে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত; লোকসান এড়াতে ট্রিপ বাতিল করছে শীর্ষস্থানীয় শিপিং লাইনগুলো
কামরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম: বৈশ্বিক কন্টেইনার শিপিং খাত বর্তমানে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে বিশ্ববাজারে পণ্যের চাহিদার মন্থর গতি, অন্যদিকে বাজারে নতুন ও বিশাল আকৃতির জাহাজের ভিড়—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে কন্টেইনার ফ্রেইট রেট বা জাহাজ ভাড়া স্থিতিশীল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে শীর্ষস্থানীয় শিপিং লাইনগুলো।
চাহিদার ঘাটতি: প্রত্যাশার চেয়ে কম কার্গো
বিভিন্ন শিপিং কোম্পানির নির্বাহীদের সাথে কথা বললে  এ প্রসঙ্গে তারা উল্লেখ করেন যে ২০২৬ সালের শুরু থেকেই বৈশ্বিক বাণিজ্যে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইউরোপ এবং আমেরিকার বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদার তেমন বড় কোনো উল্লম্ফন দেখা যায়নি।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক এক শিপিং লাইনের অপারেশনাল ডিরেক্টর বলেন, “সাধারণত লুনার নিউ ইয়ারের আগে আমরা যে পরিমাণ বুকিং পাই, এবার তার ৩০% ঘাটতি ছিল। বড় বড় রিটেইলাররা তাদের ইনভেন্টরি ক্লিয়ার করতে হিমশিম খাচ্ছে, ফলে নতুন অর্ডারের গতি ধীর।”
অতিরিক্ত সক্ষমতা (Overcapacity): বড় সংকটের মূল কারণ
শিপিং কোম্পানিগুলো করোনা পরবর্তী সময়ে যে বিপুল পরিমাণ নতুন জাহাজের অর্ডার দিয়েছিল, সেগুলো এখন বাজারে আসতে শুরু করেছে। চট্টগ্রামের এক শীর্ষস্থানীয় ফিডার অপারেটরের প্রধান নির্বাহী জানান, “বাজারে এখন জাহাজের ছড়াছড়ি। বড় জাহাজগুলো (Mother Vessels) যখন কম কার্গো নিয়ে চলে, তখন তারা ফ্রেইট রেট কমিয়ে দেয় বাজার ধরে রাখতে। এর ফলে আমাদের মতো আঞ্চলিক অপারেটরদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।” বর্তমানে পণ্য পরিবহনের চাহিদার তুলনায় জাহাজের স্থান (Space) প্রায় ১৫% থেকে ২০% বেশি। ফলে জাহাজগুলো পূর্ণ লোড নিয়ে চলতে পারছে না।
ভাড়া যেন একদম তলানিতে না ঠেকে যায়, সেজন্য বিশ্বের বড় বড় শিপিং অ্যালায়েন্সগুলো বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করছে। ব্ল্যাঙ্ক সেলিং (Blank Sailing): চাহিদা না থাকায় অনেক নির্ধারিত ট্রিপ বাতিল করা হচ্ছে। অনেক জাহাজ সিডিউল অনুযায়ী আসছে না। কার্গো স্বল্পতার কারণে শিপিং লাইনগুলো ট্রিপ কমিয়ে দিচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে সাপ্লাই চেইনকে দীর্ঘায়িত করছে।
আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের ওপর প্রভাব: ফ্রেইট রেট কম থাকায় স্বল্প মেয়াদে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা লাভবান হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এটি উদ্বেগের কারণ। শিপিং লাইনগুলো লোকসান এড়াতে অনেক ক্ষেত্রে ছোট রুটে জাহাজ সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে, যা সঠিক সময়ে পণ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের এই অসামঞ্জস্যতা ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পর্যন্ত চলতে পারে। যদি ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন না হয়, তবে ফ্রেইট রেট স্থিতিশীল হওয়া বা নতুন করে বাড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
প্রধান রুটগুলোতে ভাড়ার তুলনামূলক চিত্র (প্রতি ৪০ ফুট কন্টেইনার)
নিম্নে ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের (গড়) ফ্রেইট রেটের একটি তুলনামূলক তালিকা দেওয়া হলো:
শিপিং রুট (সাংহাই থেকে)
২০২৫ ভাড়া (গড়)
২০২৬ ভাড়া (গড়)
পরিবর্তন (শতকরা)
রটারডাম (ইউরোপ)
$৩,১৩৫
$২,১৬৪
↓ ৩১%
জেনোয়া (ভূমধ্যসাগরীয়)
$৪,২৩০
$৩,০৪৮
↓ ২৮%
লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউএস পশ্চিম উপকূল)
$৪,৭৬৫
$২,২৩৯
↓ ৫৩%
নিউ ইয়র্ক (ইউএস পূর্ব উপকূল)
$৬,২৬০
$২,৮১৯
↓ ৫৫%
বৈশ্বিক গড় সূচক (WCI)
$৩,২২০
$১,৯৩৩
↓ ৪০%

businesstoday24.com এভাবে ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।