Home স্বাস্থ্য রমজানে ডায়াবেটিস ও গ্যাস্ট্রিক রোগীদের বিশেষ স্বাস্থ্য নির্দেশিকা

রমজানে ডায়াবেটিস ও গ্যাস্ট্রিক রোগীদের বিশেষ স্বাস্থ্য নির্দেশিকা

রমজান মাসে ডায়াবেটিস এবং গ্যাস্ট্রিকের রোগীদের জন্য রোজা রাখা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে সুস্থভাবে সিয়াম সাধনা করা সম্ভব। নিচে দুই ধরনের রোগীদের জন্য বিশেষ ডায়েট চার্ট ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ তুলে ধরা হলো:

সঠিক পরিকল্পনা ও খাবারের নির্বাচনই পারে রমজানের দীর্ঘ সময়ে আপনার শরীরকে রোগমুক্ত ও কর্মক্ষম রাখতে।

১. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ ডায়েট চার্ট

ডায়াবেটিস রোগীদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত রক্তে শর্করার মাত্রা (Glucose Level) স্থিতিশীল রাখা।

সেহরিতে করণীয়: সেহরি একদম শেষ সময়ে খাবেন। খাবারে লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি বা ওটস রাখুন। এগুলো রক্তে চিনি ধীরে ধীরে ছড়ায়। সাথে পর্যাপ্ত প্রোটিন (মাছ/মুরগি/ডিম) ও প্রচুর শাকসবজি রাখুন।

ইফতারে করণীয়: ইফতারের শুরুতে ১-২টি ছোট খেজুর ও প্রচুর পানি পান করুন। অতিরিক্ত মিষ্টি শরবত বা জিলাপি এড়িয়ে চলুন। ইফতারে দই-চিঁড়া বা ফলের সালাদ রাখা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী।

রাতের খাবার: ইফতারের পর হালকা রাতের খাবার খান। ভাতের পরিমাণ কমিয়ে সবজি ও ডাল বেশি করে খান।

সতর্কতা: ইফতারের ২ ঘণ্টা পর এবং সেহরির আগে সুগার চেক করুন। সুগার খুব কমে গেলে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) বা খুব বেড়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২. গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটি রোগীদের জন্য ডায়েট চার্ট

দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকার পর অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা প্রকট হয়। এটি এড়াতে নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করুন:

ইফতারে করণীয়: একবারে অনেক বেশি খাবার খাবেন না। ইফতার শুরু করুন ডাবের পানি, ইসবগুলের ভুষি বা পাতলা স্যুপ দিয়ে। বেগুনি, পিয়াজু, আলুর চপ বা অতিরিক্ত ডুবো তেলে ভাজা খাবার পুরোপুরি পরিহার করুন। এগুলোর বদলে সেদ্ধ বা গ্রিল করা খাবার খেতে পারেন।

সেহরিতে করণীয়: সেহরিতে খুব বেশি মসলাযুক্ত বা ঝাল খাবার খাবেন না। সেহরির পর সাথে সাথেই শুয়ে পড়বেন না, অন্তত ৩০ মিনিট পায়চারি করুন। এটি এসিড রিফ্লাক্স কমাতে সাহায্য করে।

পানীয়: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুন, তবে চা বা কফি এড়িয়ে চলুন। কারণ ক্যাফেইন পাকস্থলীতে এসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

৩. সাধারণ কিছু টিপস

পরিমিত আহার: পেট ভরে না খেয়ে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খালি রেখে খাবার অভ্যাস করুন।

ফলমূল: ইফতারে টক জাতীয় ফলের চেয়ে মিষ্টি ফল (কলা, আপেল, নাশপাতি) বেশি কার্যকর।

ওষুধের সমন্বয়: রমজানের আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের সাথে কথা বলে ইনসুলিন বা ওষুধের ডোজ এবং সময় ঠিক করে নিন।


সুস্থ শরীর ইবাদত করার অন্যতম মাধ্যম। তাই নিজের শারীরিক অবস্থার প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং পরিমিত আহার নিশ্চিত করা জরুরি।

ডায়াবেটিস ও গ্যাস্ট্রিক রোগীদের জন্য আরও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ এবং রমজানের স্বাস্থ্য টিপস পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা জানান।