Home আন্তর্জাতিক পরিচয় বদলে ভারতের সৈকতে ৪৩ বছরের মার্কিন জাহাজ

পরিচয় বদলে ভারতের সৈকতে ৪৩ বছরের মার্কিন জাহাজ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: ১০ বছরের পুরনো প্রকাশ্য অঙ্গীকার পদদলিত করে মার্কিন শিপিং জায়ান্ট ‘ম্যাটসন’ তাদের সাবেক মার্কিন পতাকাবাহী এক জাহাজকে দক্ষিণ এশিয়ার বিতর্কিত শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে পাঠিয়েছে। সকল লুকোচুরি আর কৌশলী পরিচয় পরিবর্তনের পর সেই বিতর্কিত জাহাজটি এখন সরাসরি ভারতের আলং (Alang) শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের পথে।
ভেসেল ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, জাহাজটি আগামী মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সেখানে নোঙর ফেলতে পারে। বর্তমানে এটি ১১.৩ নটিক্যাল মাইল গতিতে লক্ষ্যস্থলের দিকে এগিয়ে চলছে।
৪৩ বছরের পুরনো জাহাজ ও পরিচয় গোপন
১৯৮৩ সালে নির্মিত এই কন্টেইনার জাহাজটির বর্তমান বয়স ৪৩ বছর। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্র দাপিয়ে বেড়ানো এই জাহাজটির প্রকৃত নাম ছিল ‘মোকিহানা’ (MOKIHANA), যা মূলত মার্কিন পতাকাবাহী ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন ও নিজেদের নৈতিক প্রতিশ্রুতি এড়াতে ‘ম্যাটসন’ অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে।
ভাঙার জন্য পাঠানোর ঠিক আগমুহূর্তে জাহাজটির নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘মোকিয়া’ (MOKHIA) এবং পতাকা পরিবর্তন করে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের (St Kitts & Nevis) করা হয়েছে। এটি মূলত বিষাক্ত বর্জ্য পারাপারের আইনি প্যাঁচ থেকে বাঁচার একটি চতুর কৌশল হিসেবে পরিচিত।
কেন এটি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের কারণ?
২০১৫ সালে ম্যাটসন জনসম্মুখে এক বিশাল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং শ্রমিকদের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তারা কখনোই দক্ষিণ এশিয়ার খোলা সৈকতে (Beaching) জাহাজ ভাঙতে পাঠাবে না। এখন সেই ১০ বছরের পুরনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এই ৪৩ বছরের পুরনো বিষাক্ত জাহাজটিকে ভারতে পাঠানোয় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বাসেল কনভেনশন লঙ্ঘন: বাসেল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (BAN)-এর নির্বাহী পরিচালক জিম পুকেট স্পষ্ট করে বলেছেন, “পরিচয় গোপন করার এই নোংরা কৌশল ম্যাটসনের কর্পোরেট নৈতিকতাকে ধূলিসাৎ করেছে। এটি বিপজ্জনক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ‘বাসেল কনভেনশন’-এর চূড়ান্ত লঙ্ঘন।”
পরিবেশের জন্য হুমকি: আলং-এর মতো উন্মুক্ত সৈকতে জাহাজ ভাঙলে অ্যাসবেস্টস, সিসা এবং লুব্রিকেন্ট সরাসরি সাগরের বাস্তুসংস্থানে মিশে যায়।
দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন
আন্তর্জাতিক শিপব্রেকিং প্ল্যাটফর্মের ডিরেক্টর ইংভিল্ড জেনসেন মনে করেন, সস্তা শ্রম এবং দুর্বল তদারকির সুযোগ নিয়ে খরচ বাঁচাতে ম্যাটসন এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছে। পরিবেশবাদীরা এখন ম্যাটসনের বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। প্রশ্ন উঠছে—একটি স্বনামধন্য বিশ্বখ্যাত কোম্পানি কীভাবে এমন ‘ছদ্মবেশী’ অপারেশন পরিচালনা করে নিজেদের পরিবেশগত দায়বদ্ধতা থেকে পার পেতে পারে?
মঙ্গলবার রাতে জাহাজটি তীরে ওঠার আগেই কি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে, নাকি ৪৩ বছরের পুরনো এই বিষাক্ত জাহাজটি ভারতের উপকূলে বিলীন হয়ে যাবে—এখন সেটিই দেখার বিষয়।

জাহাজ ভাঙা শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব ও সর্বশেষ আপডেট জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।