মোহাম্মদ কাউসার: আজ পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম জুমা। রহমতের দশকের এই বিশেষ দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রমজান এবং জুমা—উভয়ই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য বিশেষ উপহার, আর এই দুইয়ের মিলন দিনটিকে আরও মহিমান্বিত করে তোলে।
ইসলামি শরিয়তে জুমার দিনকে ‘সাপ্তাহিক ঈদ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, রমজান হলো ইবাদত ও গুনাহ মাফ করানোর শ্রেষ্ঠ মাস। রমজানের প্রথম জুমায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ব্যাকুল থাকেন।
রহমতের বারিধারা: রমজানের প্রথম দশ দিন রহমতের। প্রথম জুমার মাধ্যমে মুমিন বান্দা আল্লাহর অশেষ রহমত ও দয়া পাওয়ার বিশেষ সুযোগ পান।
দোয়া কবুলের সময়: রাসুলুল্লাহ (সা.) এর হাদিস অনুযায়ী, জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে যখন দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। রমজানের পবিত্রতায় এই দোয়ার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়।
গুনাহ মাফ: সহিহ মুসলিমের বর্ণনা মতে, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সময়ের মধ্যবর্তী গুনাহসমূহ মহান আল্লাহ ক্ষমা করে দেন, যদি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যায়।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিশেষ দিনে কিছু আমল অত্যন্ত ফলপ্রসূ:
আগেভাগে মসজিদে গমন: জুমার খুতবা শোনা ওয়াজিব। তাই আজান হওয়ার সাথে সাথে জাগতিক ব্যস্ততা ফেলে মসজিদে উপস্থিত হওয়া জরুরি।
সুরা কাহাফ তেলাওয়াত: জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা সুন্নত, যা মুমিনকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর বা আলোকবর্তিকা প্রদান করে।
বেশি বেশি দরুদ পাঠ: রমজানের বরকতে দরুদ শরিফের সওয়াব আরও বৃদ্ধি পায়।
তওবা ও ইস্তিগফার: বিগত জীবনের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে রমজানের প্রথম জুমায় আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
রমজানের প্রথম জুমা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সময়ের চাকা দ্রুত বহমান। রহমতের এই সুযোগ হেলায় হারানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে আজকের এই দিনটি হোক আমাদের নতুন পথচলার সূচনা।
businesstoday24.com-কে ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।