বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়ের ইঙ্গিত দিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মক ভোটিং পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। সিইসির এই বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচনী ডামাডোল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার বার্তা পেল দেশবাসী ও রাজনৈতিক দলগুলো।
তফসিল নিয়ে সিইসির বার্তা
মক ভোটিং কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসি বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই তফসিলের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, “তফসিল হোপফুলি, আমরা যেটা আশা করছি ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে হবে। ডেটটা তখন আপনারা জানতে পারবেন।”
সিইসির এই বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশন তাদের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি প্রায় গুছিয়ে এনেছে। সাধারণত তফসিল ঘোষণার ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসেবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি তফসিল হলে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে বা ফেব্রুয়ারির শুরুতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
মক ভোটিং ও ইসির সক্ষমতা যাচাই
তফসিল ঘোষণার আগে শনিবার সকাল ১১টায় সিইসি শেরেবাংলা নগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মক ভোটিং বা পরীক্ষামূলক ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। নির্বাচনের আগে এই মক ভোটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এর মাধ্যমে ইসি মূলত তিনটি বিষয় যাচাই করতে চাইছে:
১. ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি।
২. ভোটিং মেশিন (যদি ইভিএম ব্যবহার হয়) বা ব্যালট ব্যবস্থাপনার কারিগরি ত্রুটিহীনতা।
৩. ভোটারদের ভোটদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গতি।
সিইসির সশরীরে এই পরিদর্শন প্রমাণ করে যে, কমিশন কেবল দাপ্তরিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতিতেও তারা জোর দিচ্ছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ
সিইসির এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোড়জোড় শুরু হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতদিন নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে যে অস্পষ্টতা ছিল, তা অনেকটাই কেটে গেল।
দলগুলোর প্রস্তুতি: রাজনৈতিক দলগুলোকে এখন প্রার্থী চূড়ান্তকরণ এবং নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।
প্রশাসনের ভূমিকা: তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যাবে। তাই ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই দেশের প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা
যদিও সিইসি তফসিলের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সব দলের অংশগ্রহণ এবং ভোটারদের আস্থা অর্জন করাই হবে এই কমিশনের প্রধান পরীক্ষা। মক ভোটিংয়ের মতো কারিগরি প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট দূর করতে ইসিকে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত এবং পরেও কৌশলী ভূমিকা পালন করতে হবে।
সিইসির আজকের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট যে, নির্বাচন কমিশন এখন আর পেছাতে রাজি নয়; তারা নির্বাচনের চূড়ান্ত কক্ষপথে প্রবেশ করেছে।










