Home আন্তর্জাতিক এক-দাঁতের হাতির তাণ্ডব: দেড় মাসে ২২ জনের প্রাণ সংহার

এক-দাঁতের হাতির তাণ্ডব: দেড় মাসে ২২ জনের প্রাণ সংহার

এই সেই ঘাতক হাতি। ছিবি সংগৃহীত
কৃষ্ণা বসু, কলকাতা: ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে একটি এক-দাঁতবিশিষ্ট (Single-tusked) বন্য হাতির তাণ্ডব বর্তমানে এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। গত দেড় মাসে এই একটি হাতির আক্রমণে নিহতের সংখ্যা ২২ জনে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো অঞ্চলে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ঘটনার ভয়াবহতা ও প্রাণহানি
ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ, চাতরা এবং লোহারদাগা জেলায় গত জানুয়ারির শুরু থেকে এই ‘লোন বুল’ বা একাকী পুরুষ হাতিটির তাণ্ডব শুরু হয়। বনবিভাগের রেকর্ড অনুযায়ী, হাতিটি সাধারণত রাতের অন্ধকারে বা ভোরে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এটি ঘরবাড়ি ভেঙে ভেতরে থাকা মানুষদের ওপর আক্রমণ করছে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় হাজারিবাগ জেলায় আরও ৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ায় মোট নিহতের সংখ্যা ২২-এ পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন সদস্যও রয়েছেন।
বনবিভাগের বিশাল অভিযান
হাতিটিকে কাবু করতে ঝাড়খণ্ড বনবিভাগ তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় অভিযান পরিচালনা করছে:
হাই-টেক ট্র্যাকিং: হাতিটির সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে হাই-রেজোলিউশন থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘন জঙ্গলের ভেতরেও তাপীয় তরঙ্গের মাধ্যমে হাতিটির গতিবিধি ট্র্যাক করা হচ্ছে।
বিশাল জনবল: বর্তমানে বনবিভাগের প্রায় ৩০০ জন কর্মী, ট্র্যাকার এবং বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম (QRT) কাজ করছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ থেকে অভিজ্ঞ ‘এলিফ্যান্ট স্কোয়াড’ বা ‘হুলা পার্টি’ তলব করা হয়েছে।
ঘুমপাড়ানি গুলির প্রস্তুতি: হাতিটিকে ট্রানকুইলাইজ বা ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে শান্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে হাতিটির অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজের কারণে বনকর্মীরা নিরাপদ দূরত্বের মধ্যে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও প্রশাসনিক তৎপরতা
বারবার মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। হাজারিবাগ এলাকায় উত্তেজিত জনতা বনবিভাগের গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু এলাকায় প্রশাসন জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। গ্রামবাসী এখন নিজেদের জীবন বাঁচাতে মশাল ও টায়ার জ্বালিয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতিটি সম্ভবত তার দল থেকে বিচ্যুত হয়ে একা হয়ে যাওয়ায় চরম আগ্রাসী আচরণ করছে। একটি দাঁত বা ‘টাস্ক’ হারানো অথবা শরীরে কোনো পুরোনো জখম থাকার কারণেও এটি মানুষের প্রতি হিংস্র হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে একে গভীর বনাঞ্চলে ফিরিয়ে দেওয়ার চেয়ে ধরে কোনো বিশেষ কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিই গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রকৃতি, পরিবেশ ও সমসাময়িক খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য আমাদের জানান।