Home আকাশ পথ সৌর বিকিরণ আতঙ্ক: বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল

সৌর বিকিরণ আতঙ্ক: বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল

এভিয়েশন ডেস্ক: আকস্মিক সৌর বিকিরণ বা সোলার রেডিয়েশনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল। প্রযুক্তিগত ঝুঁকির আশঙ্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একযোগে হাজার হাজার এয়ারবাস বিমান উড্ডয়ন স্থগিত করা হয়েছে। এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের ফলে বাতিল হয়েছে অসংখ্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, যার জেরে বিশ্বজুড়ে বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন লাখো যাত্রী।

প্রযুক্তিগত ঝুঁকির আশঙ্কা
এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আধুনিক বাণিজ্যিক বিমানগুলোর নেভিগেশন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অটো-ফ্লাইট সিস্টেম অত্যন্ত সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক মডিউলের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে সৌর বিকিরণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় উচ্চতর ফ্লাইট রুটে থাকা বিমানের কন্ট্রোল কম্পিউটারে সাময়িক ত্রুটি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাভাবিক সৌর বিকিরণের ফলে সৃষ্ট ইলেকট্রোম্যাগনেটিক প্রভাব বিমানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতেই আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান পরিবহন মহল জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট বিপর্যয়
ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকার বড় বড় এয়ারলাইন্সগুলো তাদের বহরে থাকা এয়ারবাসের একাধিক মডেলের বিমান উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সূচিতে ভয়াবহ ধস নেমেছে। একদিকে ফ্লাইট বাতিল, অন্যদিকে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে বিশ্বজুড়ে বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। টিকেট বাতিল, পুনর্মূল্যায়ন এবং বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন এয়ারলাইন্স কর্মকর্তারা।

কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য
বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সৌর বিকিরণ বৃদ্ধির বিষয়টি তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তার স্বার্থেই কিছু অপারেটর ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিমানগুলো পুনরায় আকাশে ডানা মেলবে।

অন্যদিকে জ্যোতিঃপদার্থবিদরা ব্যাখ্যা করেছেন, সূর্য থেকে নির্গত শক্তিশালী সৌর ঝড় বা সোলার ফ্লেয়ার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশে থাকা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত এসব প্রভাব ক্ষণস্থায়ী হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সংবেদনশীল এভিওনিক্স বা বিমান প্রযুক্তিতে এটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অর্থনৈতিক ধাক্কা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিমান পরিবহনে এই আকস্মিক স্থবিরতা চলমান বৈশ্বিক ভ্রমণ চাহিদাকে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে। ফ্লাইট বাতিলের কারণে এয়ারলাইন্সগুলো বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। যাত্রীসেবায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপাতত আন্তর্জাতিক বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পরবর্তী নির্দেশনা এবং সৌর বিকিরণের মাত্রা কমে আসার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব বিমান চলাচলের স্বাভাবিকতা।