Home আন্তর্জাতিক অলিম্পিক উন্মাদনায় ভাসছে ইতালি: কুকুর দত্তক নেওয়ার ধুম

অলিম্পিক উন্মাদনায় ভাসছে ইতালি: কুকুর দত্তক নেওয়ার ধুম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিকের পর্দা ওঠার মাহেন্দ্রক্ষণে ইতালিতে বইছে এক ভিন্নধর্মী আনন্দের জোয়ার। এবারের অলিম্পিক মাসকট ‘টিনা’ (Tina) এবং ‘মিলো’ (Milo) নামক দুটি চটপটে ‘স্টোট’ (এক ধরণের নেউল জাতীয় প্রাণী) হলেও, এদের জনপ্রিয়তার ঢেউ আছড়ে পড়েছে দেশটির পোষা প্রাণীর বাজারে, বিশেষ করে কুকুর প্রেমীদের মাঝে।
মাসকট থেকে অনুপ্রাণিত নাম ও দত্তক
এবারের মাসকট দুটি হলো ভাই-বোন। সাদা রঙের টিনা অলিম্পিকের এবং বাদামী রঙের মিলো প্যারালিম্পিকের প্রতিনিধিত্ব করছে। এই মাসকটগুলোর প্রাণবন্ত স্বভাব এবং “Dream Big” (বড় স্বপ্ন দেখো) স্লোগান ইতালীয়দের এতটাই অনুপ্রাণিত করেছে যে, গত তিন মাসে দেশজুড়ে কুকুর দত্তক নেওয়ার হার প্রায় ১৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।
মিলানের বিভিন্ন অ্যানিমেল শেল্টার (প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন মালিকরা তাদের পোষ্য কুকুরের নাম রাখার ক্ষেত্রে মাসকটদের নামকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। বিশেষ করে বাদামী রঙের কুকুরছানাদের নাম রাখা হচ্ছে ‘মিলো’ এবং সাদা বা হালকা রঙের কুকুরের নাম রাখা হচ্ছে ‘টিনা’।
অলিম্পিক থিমে সাজছে পোষা প্রাণীরা
ইতালির রাস্তাঘাটে এখন অলিম্পিক লোগো সংবলিত কুকুরের পোশাক বা মাসকটদের রঙের সাথে মিলানো বেল্ট পরা কুকুরের দেখা মিলছে অহরহ। স্থানীয়রা মনে করছেন, অলিম্পিক শুধু খেলাধুলা নয়, বরং প্রাণীদের প্রতি মমতা এবং প্রকৃতির সাথে সহাবস্থানের বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রতিবেদনের মূল পয়েন্টগুলো:
সাংস্কৃতিক প্রভাব: ইতালির স্কুলপড়ুয়াদের আঁকা ছবি থেকে নির্বাচিত এই মাসকটগুলো তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পশুপ্রেম বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্যারালিম্পিক বার্তা: মাসকট ‘মিলো’ একটি পা ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেছে, কিন্তু সে তার লেজ ব্যবহার করে প্রতিকূলতা জয় করে। এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পটি বিশেষভাবে প্রতিবন্ধী বা শারীরিকভাবে দুর্বল কুকুরদের (Special Needs Dogs) দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
আর্থিক অনুদান: অলিম্পিক কমিটি ঘোষণা করেছে যে, মাসকট সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রির একটি নির্দিষ্ট অংশ বিপন্ন বন্যপ্রাণী এবং স্থানীয় প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
আজ সন্ধ্যায় মিলানের সান সিরো স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আসরটি কেবল ক্রীড়াবিদদের নয়, বরং ‘টিনা’ ও ‘মিলো’র হাত ধরে ইতালির অগণিত গৃহপালিত প্রাণীর জীবনেও এক নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে।