Home First Lead আইএলওতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে ৪৭ দেশের অকুণ্ঠ সমর্থন

আইএলওতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে ৪৭ দেশের অকুণ্ঠ সমর্থন

অধিবেশনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৫৬তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও অভিনন্দন জানিয়েছে অধিবেশনে অংশ নেওয়া ৪৭টি রাষ্ট্র। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা এই সরকারের শ্রম সংস্কার ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রতি বিশ্বনেতারা তাঁদের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেনেভায় অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বাংলাদেশের শ্রম খাতের সংস্কার ও বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে নবম অগ্রগতি প্রতিবেদন পেশ করা হয়। উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইএলও কনভেনশনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন একটি মামলা দায়ের করেছিল। গত পাঁচ বছর ধরে এই মামলা নিয়ে নানা আলোচনা হলেও, এবারই প্রথম বর্তমান সরকারের সুদৃঢ় আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের অঙ্গীকার বিশ্বজুড়ে ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে।
৫৬ সদস্যবিশিষ্ট গভর্নিং বডির মধ্যে ১৯টি রাষ্ট্র এবং দুটি আঞ্চলিক গ্রুপভুক্ত আরও ২৮টি দেশসহ মোট ৪৭টি দেশ ও মালিকপক্ষ বাংলাদেশের এই ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রশংসা করেছে। তারা বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে ঝুলে থাকা মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানায়।
অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বিশ্বনেতাদের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন:

“বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকার মানবাধিকার, আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের এই অগ্রাধিকারগুলো আইএলও-র ‘ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যাজেন্ডা’র সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।”

তিনি আরও জানান, ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-কে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, চীন ও রাশিয়াসহ প্রভাবশালী দেশগুলো বাংলাদেশের শ্রম খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে।
আরব ও উপসাগরীয় গ্রুপ: ২২ সদস্যের আরব গ্রুপ এবং ৬ সদস্যের উপসাগরীয় গ্রুপসহ মোট ১৪টি দেশ ও মালিকপক্ষ মামলাটি দ্রুত তুলে নেওয়ার জোরালো দাবি জানায়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পশ্চিমা দেশসমূহ: ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা শ্রম আইন সংশোধন ও পরিদর্শক নিয়োগের অগ্রগতির প্রশংসা করে সরকারের ‘রোডম্যাপ’ বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
দীর্ঘ আলোচনার পর অধিবেশনে উপস্থিত সকল সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে মামলাটির পরবর্তী আলোচনার তারিখ আগামী বছরের (২০২৭) মার্চ মাসে নির্ধারণ করা হয়েছে।
অধিবেশনে জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান এবং শ্রমসচিব আব্দুর রহমান তরফদার উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক এই প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের এমন গণসমর্থন দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শ্রম খাতের উন্নয়নে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।