Home আন্তর্জাতিক আরাকান আর্মির ওপর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে-র

আরাকান আর্মির ওপর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে-র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে (আরাকান) ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (AA)-র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, আরাকান আর্মি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত। ব্রিটিশ সরকারকে এই গোষ্ঠীর নেতৃত্বের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের তথ্য উঠে এসেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
গণহত্যা ও ড্রোন হামলা: পালিয়ে যাওয়া বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ড্রোন হামলা চালিয়ে শত শত মানুষকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
রোহিঙ্গা নিপীড়ন: উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা এবং তাদের শ্রম দিতে বাধ্য করার মতো ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ সরকারও রোহিঙ্গাদের ওপর আরাকান আর্মির পক্ষ থেকে গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল।
যুদ্ধবন্দীদের হত্যা: আটককৃত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যদের গলা কেটে বা জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
চিন রাজ্যে সহিংসতা: পার্শ্ববর্তী চিন রাজ্যের কিছু অংশ দখল করে সেখানে ধর্ষণ, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
মতপ্রকাশে বাধা: শুধু অন্য জাতিগোষ্ঠী নয়, জাতিগত রাখাইনদের ওপরও দমন-পীড়ন চালাচ্ছে আরাকান আর্মি। ইন্টারনেট সেবা সীমিত করা এবং সমালোচনাকারী সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার আহ্বান
বিবৃতিতে বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে-র পরিচালক মার্ক ফারমানার বলেন:

“আরাকান আর্মিকে দায়মুক্তি দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে দেওয়া হলে তারা আরও অপরাধ করতে উৎসাহিত হবে। তাদের সাথে ব্যক্তিগত আলোচনার মাধ্যমে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। এখন সময় এসেছে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতার মুখোমুখি করার।”

সংস্থাটি ব্রিটিশ সরকারকে আইসিসি (ICC) বা আইসিজে (ICJ)-এর মতো আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে আরাকান আর্মির নেতৃত্বের বিচার নিশ্চিত করার এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একজন মানবাধিকার কর্মকর্তাকে দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং করানোর আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা দখল করে নিলেও তাদের এই সাফল্যের আড়ালে ক্রমবর্ধমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও খবরের জন্য businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মন্তব্য জানান।