Home জাতীয় বিপুল ভোটে জয়ী দুলু এবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী

বিপুল ভোটে জয়ী দুলু এবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী

আসাদুল হাবিব দুলু
মো. গোলাপ মিয়া, লালমনিরহাট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসন থেকে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
নির্বাচনের ফলাফল ও শপথ
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আসাদুল হাবিব দুলু তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় ৮৪ হাজার ভোট বেশি পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২০০১ সালের নির্বাচনেও একই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তিনি যোগাযোগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও তিনি একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন, তবে এবার পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে।
তিস্তা পাড়ের মানুষের আস্থার প্রতীক
আসাদুল হাবিব দুলু কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি উত্তরবঙ্গের নদী ও মানুষের অধিকার আদায়ের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তিনি সামাজিক আন্দোলন ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ এবং ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর প্রধান সমন্বয়ক। তিস্তা অববাহিকার ৫ জেলার মানুষের অধিকার রক্ষায় তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি স্থানীয়দের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই: নদী ও মানুষের অধিকার’-এ এই অঞ্চলের মানুষের সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে।
লালমনিরহাট জেলা বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল বাশার সুমন (সুমন বাশার) বলেন, “তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন নেতা হিসেবে তিনি জানেন কুড়িগ্রাম, রংপুর ও লালমনিরহাটের উন্নয়নে ঠিক কোথায় কাজ করতে হবে। তাঁর অভিজ্ঞতায় এ অঞ্চলের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।”
এক নজরে আসাদুল হাবিব দুলু
জন্ম: ৪ জুলাই ১৯৬০।
পারিবারিক ইতিহাস: পিতা শহীদ আবুল কাশেম মিয়া ১৯৭১ সালের ৯ নভেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন।
শিক্ষা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর।
রাজনৈতিক পথচলা: ১৯৭৬ সালে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর মাধ্যমে রাজনীতি শুরু। ১৯৮৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপিতে যোগদান। ১৯৯০ সালে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ১৯৯১ সাল থেকে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিজ্ঞ এই রাজনীতিকের হাত ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের পিছিয়ে পড়া জেলাগুলো উন্নয়নের নতুন শিখরে পৌঁছাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

businesstoday24.com-কে ফলো করুন এবং এ বিষয়ে আপনার মতামত জানাতে মন্তব্য করুন।