বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘জনতার ইশতেহার’ শিরোনামে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এই ইশতেহার উপস্থাপন করেন।
রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন, প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ বিনির্মাণ এবং জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আটটি ভাগে মোট ৪১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি বিষয়কে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছে দলটি।
মায়েদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও নারীর নিরাপত্তা
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান নারীদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই না কোনো মা তার সন্তানের কারণে চাকরি ছেড়ে দিক। এজন্য আমরা মায়েদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব করেছি। মা যতটুকু সময় কাজ করবেন, মালিক ততটুকু বেতন দেবেন; আর বাকি সময়ের বেতন দেবে সরকার।”
এছাড়া নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং জামায়াত বিজয়ী হলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী মন্ত্রী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
যুবকদের প্রাধান্য ও কর্মসংস্থান
বেকার ভাতার পরিবর্তে যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে জামায়াত। সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, বিনামূল্যে আবেদন এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সমাজ গঠনের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং পাহাড়ি-বাঙালি বৈষম্য দূর করার মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।
২৬টি অগ্রাধিকার পয়েন্টের উল্লেখযোগ্য দিক:
১. জাতীয় স্বার্থে আপসহীনতা: স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থান। ২. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন এবং বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ। ৩. নির্বাচনী সংস্কার: সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। ৪. সুশাসন ও বিচার: বিগত সময়ের গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা। ৫. অর্থনৈতিক সংস্কার: ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বেসরকারি ব্যবসা-বাণিজ্যকে উৎসাহিত করা। ৬. দ্রব্যমূল্য ও আবাসন: দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং নিম্নবিত্তদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা। ৭. যোগাযোগ বিপ্লব: রাজধানী থেকে বিভাগীয় শহরের দূরত্ব সড়ক বা রেলপথে ২-৩ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা।
‘হ্যাঁ’ ও ‘না’-এর রাজনীতি
ইশতেহারে পাঁচটি ‘হ্যাঁ’ এবং ছয়টি ‘না’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে খাদ্যকে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দলটি। ইশতেহারে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম হতে দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, এনসিপি, লেবার পার্টি ও জাগপাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বিদেশী কূটনীতিক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত এবং ‘জনতার ইশতেহার’-এর একটি ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।