Home চট্টগ্রাম বন্দরে দুই দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত

বন্দরে দুই দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত

 রোববার থেকে ফের আন্দোলনের আলটিমেটাম

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চলমান লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্দর ভবনে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

কর্মসূচি স্থগিত ও আলটিমেটাম

সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহীম খোকন জানান, পবিত্র রমজান মাস এবং ব্যবসায়িক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে শুক্রবার ও শনিবার কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে নৌ উপদেষ্টার আশ্বাস অনুযায়ী শনিবারের মধ্যে দাবি আদায় না হলে আগামী রোববার থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু হবে। বিকেল ৫টার পর থেকে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়।

সংগ্রাম পরিষদের চার দাবি

বৈঠকে আন্দোলনকারীরা উপদেষ্টার কাছে চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন: ১. নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া যাবে না। ২. আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সকল প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও বদলি আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। ৩. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ব-স্ব অবস্থানে পুনর্বহাল করতে হবে। ৪. বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের পদত্যাগ।

সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন বলেন, “উপদেষ্টা মহোদয় জানিয়েছেন এনসিটি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক এখতিয়ার তাঁর নেই; তিনি উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে আমাদের জানাবেন। তবে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।”

নৌপরিবহন উপদেষ্টার বক্তব্য

বৈঠক শেষে নৌ উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “রোজার আগে বন্দর অচল করে এ ধরনের আন্দোলন অমানবিক। বাধা দিলে সরকার ‘হার্ডলাইনে’ যেতে বাধ্য হবে। আগামীকাল সকাল থেকে বন্দর সচল না হলে অন্যভাবে দেখা হবে।”

এনসিটি চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “চুক্তি বোধ হয় ঠেকানো যাবে না, তবে দেশের ক্ষতি করে কোনো চুক্তি হবে না। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে নেগোসিয়েশন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।”

গত শনিবার থেকে তিন দিন আট ঘণ্টা করে এবং মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। এর ফলে বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও সরবরাহ বন্ধ হয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। আজ সকালে নৌ উপদেষ্টা চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিকেলে তিনি বন্দর ভবনে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন।