পঞ্চম পর্ব:
এপস্টাইন কেলেঙ্কারি: অন্ধকার জগতের নেপথ্যে
মাহবুব হাসান
জেফরি এপস্টাইন কেবল একজন অপরাধী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্ব রাজনীতির উচ্চশিখরে থাকা ব্যক্তিদের বন্ধু। তার ব্যক্তিগত ডায়েরি এবং ‘ফ্লাইট লগ’ (ললিতা এক্সপ্রেসের যাত্রী তালিকা) ফাঁস হওয়ার পর বিশ্ববাসী স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। দেখা যায়, ক্ষমতার সর্বোচ্চ স্তরের মানুষেরা তার ডিনার পার্টি এবং ব্যক্তিগত দ্বীপে নিয়মিত যাতায়াত করতেন।
১. ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিল ক্লিনটন এপস্টাইনের ঘনিষ্ঠদের তালিকায় ছিলেন আমেরিকার দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সময় তাকে ‘টেরিফিক গাই’ বলে অভিহিত করেছিলেন। অন্যদিকে, বিল ক্লিনটন এপস্টাইনের ব্যক্তিগত বিমানে বহুবার ভ্রমণ করেছেন বলে রেকর্ড পাওয়া যায়, যদিও তারা উভয়েই পরবর্তীতে এপস্টাইনের অপরাধ সম্পর্কে কোনো ধারণা থাকার কথা অস্বীকার করেন।
২. ব্রিটিশ রাজপরিবার ও প্রিন্স অ্যান্ড্রু এপস্টাইন কেলেঙ্কারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সম্মান। প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে সরাসরি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনেন ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে। এই বিতর্কের জেরে প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে তার রাজকীয় উপাধি ও সরকারি দায়িত্ব ত্যাগ করতে হয়।
৩. বিল গেটস ও প্রযুক্তি বিশ্ব মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সাথেও এপস্টাইনের একাধিক বৈঠকের খবর সামনে আসে। মেলিন্ডা গেটসের সাথে তার বিচ্ছেদের পেছনে এপস্টাইনের সাথে এই সখ্যতা একটি বড় কারণ ছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়া আরও অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী ও ব্যবসায়ীর নাম এই তালিকায় যুক্ত হয়।
৪. ব্ল্যাকমেইলের মোক্ষম হাতিয়ার? বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টাইন সচেতনভাবে এই শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন। তার বিলাসবহুল দ্বীপ এবং ম্যানশনে আসা অতিথিদের গোপন ভিডিও রেকর্ড করা হতো বলে অভিযোগ আছে, যা তাকে এক অদৃশ্য ক্ষমতার চূড়ায় বসিয়েছিল।









