Home আন্তর্জাতিক লিটল সেন্ট জেমস—সেই ‘পাপের দ্বীপ’

লিটল সেন্ট জেমস—সেই ‘পাপের দ্বীপ’

দ্বিতীয় পর্ব:

এপস্টাইন কেলেঙ্কারি: অন্ধকার জগতের নেপথ্যে

মাহবুব হাসান

জেফরি এপস্টাইনের সম্পদের তালিকায় সবচেয়ে রহস্যময় এবং ভীতিজাগানিয়া অংশ ছিল ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডের তার ব্যক্তিগত দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’। মানচিত্রের এই ক্ষুদ্র বিন্দুটি এক সময় হয়ে উঠেছিল পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আমোদ-প্রমোদের কেন্দ্রস্থল, যা পরবর্তীকালে ‘পাপের দ্বীপ’ (Pedophile Island) নামে কুখ্যাতি পায়।

একটি দুর্ভেদ্য দুর্গ এপস্টাইন ১৯৯৮ সালে প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলারে এই দ্বীপটি কেনেন। চারদিকে নীল জলরাশি বেষ্টিত এই দ্বীপে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেখানে ছিল বিলাসবহুল ভিলা, হেলিপ্যাড, এবং একটি রহস্যময় নীল-সাদা ডোরাকাটা মন্দির আকৃতির ভবন, যা নিয়ে আজও নানা গুঞ্জন শোনা যায়।

প্রভাবশালীদের আনাগোনা এপস্টাইনের ব্যক্তিগত জেট বিমান ‘ললিতা এক্সপ্রেস’-এ চড়ে এই দ্বীপে আসতেন বিশ্বের বাঘা বাঘা সব ব্যক্তিত্ব। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে আগত অতিথিদের তুষ্ট করতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ব্যবহার করা হতো। দ্বীপের নির্জনতাকে কাজে লাগিয়ে সেখানে এক ভয়াবহ অপরাধী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন এপস্টাইন।

বন্দিত্ব ও আর্তনাদ তদন্তে উঠে এসেছে যে, অনেক মেয়েকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে নিয়ে যাওয়া হতো এবং তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে দ্বীপেই বন্দি করে রাখা হতো। চারদিকে সমুদ্র থাকায় সেখান থেকে পালানোর কোনো পথ ছিল না। ভুক্তভোগীদের মতে, সেটি ছিল সোনার খাঁচায় বন্দি এক নরক।

গোপন নজরদারি বলা হয়, পুরো দ্বীপটি গোপন ক্যামেরায় সজ্জ্বিত ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল দ্বীপে আসা প্রভাবশালী অতিথিদের আপত্তিকর ভিডিও রেকর্ড করা, যাতে ভবিষ্যতে তাদের ব্লাকমেইল করে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যায়।


আগামী পর্বে থাকছে: জিসলেন ম্যাক্সওয়েল—কে এই নারী? কীভাবে তিনি এপস্টাইনের জন্য মেয়েদের সংগ্রহ করতেন?