Home অন্যান্য ২০০৮ সালের সেই বিতর্কিত বিচার ও ‘রহস্যময়’ মুক্তি

২০০৮ সালের সেই বিতর্কিত বিচার ও ‘রহস্যময়’ মুক্তি

চতুর্থ পর্ব:

এপস্টাইন কেলেঙ্কারি: অন্ধকার জগতের নেপথ্যে

মাহবুব হাসান

২০০৫ সালে যখন প্রথমবার ফ্লোরিডায় জেফরি এপস্টাইনের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে, তখন মনে হয়েছিল তার অপরাধ সাম্রাজ্যের পতন ঘটবে। কিন্তু যা ঘটেছিল, তা আমেরিকার বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে অন্যতম বড় কলঙ্ক হিসেবে পরিচিত।

ডজন ডজন ভুক্তভোগী, কিন্তু লঘু দণ্ড তদন্তে প্রায় ৩৬ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের জবানবন্দি পাওয়া যায়। এফবিআই তার বিরুদ্ধে কয়েকশ পৃষ্ঠার প্রমাণ জোগাড় করেছিল। যেখানে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এক অদ্ভুত আইনি সমঝোতা বা ‘নন-প্রসিকিউশন এগ্রিমেন্ট’ করা হয়।

প্রভাবশালীদের অদৃশ্য হাত বলা হয়, সেই সময়কার বড় বড় আইনজীবী এবং রাজনীতিকদের চাপে প্রসিকিউটররা নতি স্বীকার করেছিলেন। এই চুক্তির ফলে এপস্টাইনকে মাত্র ১৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এমনকি তার সহযোগীদেরও আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়, যার মধ্যে জিসলেন ম্যাক্সওয়েলও ছিলেন।

জেল নাকি ছুটি? কারাদণ্ড হলেও এপস্টাইনকে সাধারণ কয়েদিদের মতো থাকতে হয়নি। তিনি ‘ওয়ার্ক রিলিজ’ সুবিধার আওতায় সপ্তাহে ৬ দিন, দিনে ১২ ঘণ্টা করে নিজের অফিসে কাটানোর অনুমতি পান। অর্থাৎ তিনি নামমাত্র জেলে থাকতেন, কিন্তু আসলে নিজের ব্যবসা ও নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

 বিশ্বকে স্তব্ধ করা মুক্তি ২০০৯ সালে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এপস্টাইন আবারও তার অভিজাত জীবনে ফিরে যান। প্রভাবশালী মহলে তার যাতায়াত আগের মতোই বজায় থাকে। এই বিতর্কিত বিচারই তাকে আরও বেপরোয়া করে তোলে, যার মাশুল দিতে হয়েছে আরও অনেক নিরপরাধ মেয়েকে।