বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশে রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে এখন হাহাকার আর অনিয়মের রাজত্ব। সরকার ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করলেও সাধারণ গ্রাহককে তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত দামে। অর্থাৎ, নির্ধারিত দামের চেয়ে অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের, যা আগের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।
এলাকাভেদে দামের ভিন্নতা ও রসিদবিহীন বাণিজ্য
গত দুই সপ্তাহ ধরে এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও ঢাকার বাইরের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে কোনো নির্দিষ্ট দাম নেই।
রামপুরা: বুধবার এক গ্রাহক সিলিন্ডার কিনেছেন ১,৭৫০ টাকায়।
মুগদা ও টাঙ্গাইল: বৃহস্পতিবার দাম ঠেকেছে ১,৮০০ থেকে ১,৮৫০ টাকায়।
মোহাম্মদপুর: শুক্রবার সকালে সর্বোচ্চ ২,১০০ টাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বাড়তি দাম নিলেও বিক্রেতারা কোনো ‘ক্রয় রসিদ’ দিচ্ছেন না। ফলে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার কোনো আইনি প্রমাণ রাখতে পারছেন না ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
সংকট নাকি সিন্ডিকেটের কারসাজি?
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এলপিজি তিন হাত (আমদানিকারক > ডিলার/ডিস্ট্রিবিউটর > খুচরা বিক্রেতা) ঘুরে গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়। প্রতিটি স্তরেই দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি কারসাজি হচ্ছে ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ে।
যদিও ব্যবসায়ীরা বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি এবং জাহাজ সংকটের দোহাই দিচ্ছেন, তবে বিশ্লেষকরা বলছেন বাজারে এলপিজির কোনো গুরুতর সংকট নেই। বরং সরবরাহ ঘাটতির কৃত্রিম অজুহাত দেখিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে।
সরবরাহ চেইন ও অপারেটরদের ভূমিকা
পরিবেশকদের দাবি, এলপিজি অপারেটর কোম্পানিগুলো বর্তমানে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় মাত্র ৩০-৪০ শতাংশ সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া:
অপারেটর পর্যায়ে বৃদ্ধি: কোম্পানিগুলো সিলিন্ডার প্রতি ৭০-৮০ টাকা বাড়তি নিচ্ছে।
পরিবহন ব্যয়: ট্রাক দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকায় খরচ বাড়ছে।
ডিলার পর্যায়ে মুনাফা: ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটররা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ১৫০-২০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করছে।
আমদানিতে জাহাজ সংকট ও বৈশ্বিক প্রভাব
শীতের কারণে বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বৃদ্ধি এবং ২৯টি নিয়মিত এলপিজি পরিবহনের জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ায় আমদানিতে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। গত মাসে এলপিজি আমদানি আগের চেয়ে কমেছে। এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও মজুতদাররা।
বিইআরসি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
রবিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বরাবরের মতো নতুন মাসের দাম পুনর্নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে বিইআরসি নির্ধারিত দামের কোনো কার্যকারিতা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। বাজার মনিটরিং এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে এই অরাজকতা থামবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।










