এভিয়েশন ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে আকাশপথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা (Air Cargo) চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে বৈশ্বিক কার্গো সক্ষমতা ২০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে পচনশীল খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে বিমানের যন্ত্রাংশ—সবই আটকা পড়ে আছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। জাপানের সংবাদমাধ্যম ‘জাপান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
মূল সংকট ও সক্ষমতা হ্রাস
এভিয়েশন কনসালটেন্সি সংস্থা Aevean-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আকাশপথে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা ২২ শতাংশ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দুই এভিয়েশন হাব— দোহা ও দুবাই সহ পুরো অঞ্চলে যাত্রীবাহী ও কার্গো বিমান চলাচল বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জিএ টেলেসিস (GA Telesis)-এর সিইও আবদোল মোয়াবেরি সতর্ক করে বলেছেন:
“মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য জরুরি যন্ত্রাংশ পাঠানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
বাণিজ্যে প্রভাব ও ফ্রেইট রেট বৃদ্ধি
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (IATA)-এর মতে, মূল্যের বিচারে বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশ আকাশপথে সম্পন্ন হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিমান সংস্থাগুলো বৈশ্বিক সক্ষমতার ১৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এই সংকট সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে।
পরিবহন ব্যয়ের বর্তমান চিত্র (Freightos-এর তথ্য অনুযায়ী):
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইউরোপ: প্রতি কেজিতে খরচ ৬% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৮২ মার্কিন ডলার।
- দক্ষিণ এশিয়া থেকে ইউরোপ: ভাড়া বেড়েছে ৩%।
- দক্ষিণ এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র: ভাড়া বেড়েছে ৫%।









