শেষ পর্ব
ওমান স্মৃতির দুই দশক: স্মৃতির ধুলো ঝেড়ে দেখা
কামরুল ইসলাম
সালালাহর সেই আধ্যাত্মিক আর প্রাকৃতিক মুগ্ধতা পেছনে ফেলে এবার ফেরার পালা। আমরা যখন মাস্কাটের উদ্দেশ্যে বাসে উঠলাম, তখন রাত। ওমানের মরুভূমির বুক চিরে দীর্ঘ এক হাজার কিলোমিটারের সেই পথ পাড়ি দিয়ে আমরা যখন সকালে মাস্কাট পৌঁছালাম, আমাদের ক্লান্তিকে ছাপিয়ে জেগে উঠল সফরের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা।
বাস থেকে নেমে আমরা সরাসরি চলে গেলাম রাষ্ট্রদূত গোলাম আকবর খোন্দকারের বাসভবনে। সেখানে প্রাতঃরাশ সেরে আমরা রাষ্ট্রদূতের সাথে এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে বসলাম। একজন ঝানু রাজনীতিক ও কূটনীতিক হিসেবে তিনি আমাদের সাথে ওমানের অর্থনীতি, সেখানে বাংলাদেশি শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করলেন। সাংবাদিক হিসেবে সেই ব্রিফিং ছিল আমাদের পুরো সফরের এক সারসংক্ষেপ।
ডিপ্লোমেটিক ক্লাবে রাজকীয় সন্ধ্যা ও বিদায়: সেদিন সন্ধ্যায় আমাদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল মাস্কাটের বিখ্যাত ডিপ্লোমেটিক ক্লাবে এক জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। সেখানে ওমানি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি চট্টগ্রামের সেই সফল প্রবাসী নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম, ইয়াসিন চৌধুরী ও সিরাজুল হকসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
প্রবাসীদের নানা গিফট আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আমরা সেখান থেকে সরাসরি রওনা হলাম মাস্কাট বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে। রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে ওমানের সেই তপ্ত পাহাড়ের স্মৃতি পেছনে ফেলে আমরা উড়াল দিলাম আবু ধাবির পথে।
ভোরবেলা যখন আমাদের বিমান আবু ধাবিতে ল্যান্ড করল, তখন শুরু হলো সফরের এক উপরি পাওনা। আবু ধাবি বিমানবন্দর থেকে আমরা সড়কপথে রওনা হলাম স্বপ্নের শহর দুবাইয়ের দিকে। মসৃণ হাইওয়ে দিয়ে মরুভূমির বুক চিরে দুবাইয়ে প্রবেশ করা ছিল এক দারুণ অভিজ্ঞতা। সেখানে হোটেলে চেক-ইন করার পর আমরা শহরটি ঘুরে দেখার (Sightseeing) সুযোগ পেলাম। আকাশচুম্বী দালানকোঠা আর দুবাইয়ের সেই জাদুকরী বিপণিবিতানগুলোতে মার্কেটিং বা কেনাকাটায় সময় কেটে গেল।












