বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বিএনপি তাদের ইশতেহারে আগামী ৫ বছরে দেশে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। মূলত ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’—এই নীতির ভিত্তিতে তারা একটি মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে।
১. শিক্ষিত বেকারদের জন্য বিশেষ সুবিধা
বেকারভাতা: শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের জন্য স্নাতক ডিগ্রিধারী হওয়ার পর চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত অথবা সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক বেকারভাতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
চাকরির বয়সসীমা: সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা রাখা হবে না (প্রতিরক্ষা ও বিশেষায়িত খাত ছাড়া), যাতে সকল যোগ্য নাগরিক সমান সুযোগ পান।
২. আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ: চাকরিপ্রার্থীদের নিবন্ধিত করতে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সঠিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নিশ্চিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু করা হবে।
আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং: ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং এবং এআই (AI) এর মতো আধুনিক খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে ২ লক্ষ প্রত্যক্ষ এবং ৮ লক্ষ পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা: চাহিদাভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সার্টিফিকেশন কোর্স চালু করা হবে, যাতে তরুণরা দেশে ও বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি পায়।
৩. মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও স্বচ্ছতা
দলীয় প্রভাবমুক্ত নিয়োগ: বিসিএসসহ সকল সরকারি চাকরিতে দলীয় প্রভাব ও বৈষম্য দূর করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
ডোপ টেস্ট: তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট প্রক্রিয়া কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
৪. উদ্যোক্তা ও প্রবাসী জনশক্তি
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (SME): উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং বিশেষ করে নারী ও কুটির শিল্পীদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকবে।
বিদেশে দক্ষ জনশক্তি: প্রতি বছর প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের পথ তৈরির জন্য বিনামূল্যে ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার সেন্টার
প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ক্যারিয়ার সেন্টার’ স্থাপন করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং সরাসরি চাকরির বাজারের সাথে সংযুক্ত করবে।
বিএনপির এই পরিকল্পনাটি মূলত তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে তৈরি, যেখানে বেকারভাতা এবং ১ কোটি কর্মসংস্থানের মতো বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে একটি বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।