Home জাতীয় কুমিল্লা-৪: হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বৈধ, বাদ পড়লেন বিএনপির মুন্সী

কুমিল্লা-৪: হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বৈধ, বাদ পড়লেন বিএনপির মুন্সী

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এল। এই আসনের এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে ঋণ খেলাপির দায়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে এই রায় প্রদান করা হয়।
হাসনাতের ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ নিয়ে বিতর্ক ও ইসির রায়:
এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহর নির্বাচনি হলফনামায় উল্লেখ করা অর্থের উৎস নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। তিনি অভিযোগ করেন, হাসনাত তার নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য ‘ক্রাউড ফান্ডিং’-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত যে ৩০ লাখ টাকার কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি প্রকৃতপক্ষে একটি ‘ভেক’ বা সাজানো বিষয়।
তবে নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের স্বচ্ছতা ও বৈধ নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়।
কমিশন তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে জানায়, বিএনপির প্রার্থীর করা অভিযোগটি প্রমাণিত হয়নি। ফলে হাসনাতের প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা করা হয় এবং তার নির্বাচনে অংশ নিতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
ঋণ খেলাপির দায়ে ছিটকে গেলেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী:
অন্যদিকে, কুমিল্লা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর জন্য আজকের দিনটি ছিল দুঃসংবাদের। তার বিরুদ্ধে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে ‘ঋণ খেলাপি’ সংক্রান্ত একটি আপিল আবেদন করা হয়েছিল।
শুনানিতে হাসনাতের আইনজীবীরা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর খেলাপি ঋণের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি উপস্থাপন করেন। নির্বাচন কমিশন সেই আপিল আবেদনটি মঞ্জুর করে এবং ঋণ খেলাপির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করে। এর ফলে এই আসন থেকে আপাতত বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর নির্বাচনের পথ বন্ধ হয়ে গেল।
স্থানীয় রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পর কুমিল্লা-৪ এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এনসিপি তথা হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকরা এই রায়কে ‘সত্যের জয়’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, বিএনপি শিবিরের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি