Home পরিবেশ কুয়াকাটায় ফের মৃত ডলফিন; সংকটে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য

কুয়াকাটায় ফের মৃত ডলফিন; সংকটে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য

বিজনেসটুডে২৪  প্রতিনিধি, পটুয়াখালী: কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আবারও ভেসে এলো একটি মৃত ডলফিন।  শুক্রবার সকালে সৈকতের পশ্চিম পাশের স্বপ্নরাজ্য পার্ক এলাকায় স্থানীয় ডলফিন সুরক্ষা কমিটির সদস্যরা ডলফিনটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। ডলফিনটির শরীর থেকে চামড়া উঠে যাওয়ায় এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোয় ধারণা করা হচ্ছে এটি বেশ কয়েকদিন আগেই মারা গেছে।
বন বিভাগ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর (উপরা) উপস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ডলফিনটিকে দ্রুত মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পরিবেশবাদীদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় ডলফিন রক্ষায় প্রচারণা চললেও মৃত্যুর মিছিল থামছে না। যথাযথ বৈজ্ঞানিক ময়নাতদন্ত ও কারণ অনুসন্ধান না হওয়ায় প্রকৃত রহস্য আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।
কুয়াকাটা বা বঙ্গোপসাগর উপকূলে ডলফিনের মৃত্যুর পেছনে মূলত তিনটি প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ থাকতে পারে:
১. ফিশিং নেটে আটকা পড়া (Bycatch)
ডলফিন স্তন্যপায়ী প্রাণী, তাই শ্বাস নেওয়ার জন্য তাদের নির্দিষ্ট সময় পরপর পানির উপরে আসতে হয়। গভীর সমুদ্রে বড় মাছ ধরার জালে (বিশেষ করে গিলনেট) ডলফিন আটকে গেলে তারা আর উপরে উঠতে পারে না। ফলে অক্সিজেনের অভাবে (Asphyxiation) তাদের মৃত্যু হয়। চামড়া উঠে যাওয়া বা শরীরে আঘাতের চিহ্ন অনেক সময় জালের ঘর্ষণের ফলেই সৃষ্টি হয়।
২. সমুদ্রের শব্দ দূষণ ও সোনার (Sonar) প্রভাব
ডলফিন চলাফেরা এবং শিকারের জন্য ইকোলোকেশন (Echolocation) ব্যবহার করে। সমুদ্রতলে বড় জাহাজের ইঞ্জিন, খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে ব্যবহৃত ‘সিসমিক সার্ভে’ বা উচ্চমাত্রার শব্দ তরঙ্গ ডলফিনের শ্রবণ ও দিকনির্ণয় ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
এতে তারা দিকভ্রান্ত হয়ে অগভীর পানিতে চলে আসে এবং সৈকতে আটকা পড়ে মারা যায়।
৩. পরিবেশগত বিষক্রিয়া ও সংক্রামক ব্যাধি
সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণ এবং রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে ডলফিনের শরীরে দীর্ঘমেয়াদী বিষক্রিয়া তৈরি হতে পারে। এছাড়া অনেক সময় সামুদ্রিক শৈবালের আধিক্য (Red Tide) থেকে নির্গত টক্সিন ডলফিনের স্নায়ুতন্ত্রকে অকেজো করে দেয়।
ডলফিনটি পচে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে কোনো সংক্রামক ভাইরাসের (যেমন: Morbillivirus) প্রভাব ছিল কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি।
৪. পানির ভৌত-রাসায়নিক পরিবর্তন
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের পানির লবণাক্ততা বা তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তন ঘটলে অনেক সময় ডলফিন খাপ খাওয়াতে পারে না। বিশেষ করে শীতকালে বা মৌসুম পরিবর্তনের সময় উপকূলীয় স্রোতের পরিবর্তনের কারণে মৃত দেহগুলো তীরের দিকে ভেসে আসে।
পরিবেশগত ঝুঁকি ও পরবর্তী পদক্ষেপ
স্বাস্থ্যঝুঁকি: মৃত ডলফিনের শরীর থেকে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাস ছড়াতে পারে, যা স্থানীয় মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই দ্রুত মাটিচাপা দেওয়া একটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।
ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয়তা: সুরক্ষাকর্মীদের দাবি অনুযায়ী, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে Necropsy (প্রাণীর ময়নাতদন্ত) এবং ল্যাবরেটরি টেস্ট প্রয়োজন।
সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা: কুয়াকাটা সংলগ্ন সমুদ্রের নির্দিষ্ট অংশকে ডলফিনের জন্য অভয়াশ্রম হিসেবে আরও কঠোরভাবে তদারকি করা প্রয়োজন।