রামেশ ভট্টরায়, কাঠমান্ডু: নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং সিপিএন-ইউএমএল (CPN-UML) চেয়ারম্যান কেপি শর্মা অলিকে আজ শনিবার সকালে তার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেছে নেপাল পুলিশ। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দেশজুড়ে চলা ‘জেন জি’ (Gen Z) আন্দোলনে দমন-পীড়ন এবং ১৯ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা এবং অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে নেপালের তরুণ প্রজন্ম (জেন জি) রাস্তায় নেমে আসে। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির সরকার এই আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান নেয়।
৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরের সেই সহিংসতায় অন্তত ৭৭ জন প্রাণ হারান, যার মধ্যে প্রথম দিনেই পুলিশের গুলিতে ১৯ জন নিহত হন। এই গণ-অভ্যুত্থানের মুখেই অলি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার ভোরে ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকায় অলির বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সাথে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখাককেও তার বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাঠমান্ডু উপত্যকা পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী গণমাধ্যমকে জানান: “তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তদন্ত কমিশনের চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রাক্তন বিশেষ আদালতের বিচারক গৌরী বাহাদুর কারকির নেতৃত্বে গঠিত একটি তদন্ত কমিশন সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও সরাসরি ‘গুলি করার আদেশ’ দেওয়ার প্রমাণ মেলেনি, তবুও তৎকালীন সরকার প্রধান হিসেবে অলি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখাক চরম ‘অপরাধমূলক অবহেলা’ প্রদর্শন করেছেন। গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও তারা রক্তপাত থামাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
র্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা নেপালের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ (বালেন শাহ) গতকালই শপথ গ্রহণ করেছেন। তার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং এক বার্তায় বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এটি কোনো প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শুরু।”
কেপি শর্মা অলির দল সিপিএন-ইউএমএল এই গ্রেপ্তারকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে কাঠমান্ডুর রাস্তায় সাধারণ মানুষকে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাতে দেখা গেছে। নেপালের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রাক্তন সরকার প্রধানকে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধে (হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত) গ্রেপ্তার করা হলো।