আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাত্র চার সপ্তাহ পার হতেই মার্কিন সামরিক বাহিনীর টমাহক (Tomahawk) ক্রুজ মিসাইলের মজুদ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৮৫০টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। প্রতিটি মিসাইলের মূল্য ধরনভেদে ২০ লক্ষ থেকে ৩৬ লক্ষ ডলার। নৌবাহিনীর পাইলটদের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে ১,০০০ মাইল দূর থেকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম স্তম্ভ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রের এই মজুদ এখন ‘বিপজ্জনকভাবে কম’। অন্য এক কর্মকর্তা সামরিক পরিভাষা ব্যবহার করে বর্তমান অবস্থাকে ‘উইনচেস্টার’ (Winchester) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার অর্থ হলো—গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসা।
টমাহক মিসাইলের মোট মজুদের পরিমাণ একটি কঠোর গোপনীয় বিষয় হলেও, এর বার্ষিক উৎপাদন হার খুবই সীমিত। গত বছরের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ৫৭টি টমাহক ক্রয় করেছিল। বছরে মাত্র কয়েকশ মিসাইল তৈরি সম্ভব হওয়ায় বর্তমানের এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক থেকে সরিয়ে আনার পরিকল্পনা
মজুদ ফুরিয়ে আসায় পেন্টাগনের কর্মকর্তারা এখন জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা করছেন যে, ইন্দো-প্যাসিফিকের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল থেকে টমাহক সরিয়ে এনে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হবে কি না। ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণ সচল রাখতেই এই বিকল্পের কথা ভাবা হচ্ছে।
“আমরা যে হারে মিসাইল ব্যবহার করছি, তা উৎপাদনের হারের চেয়ে অনেক বেশি। এটি আমাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।” — পেন্টাগন সংশ্লিষ্ট সূত্র।
টমাহকের ইতিহাস
১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের আমলে প্রথম ব্যবহারের পর থেকে টমাহক মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হয়ে ওঠে। এগুলো সাধারণত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। তবে ইরানের বিরুদ্ধে এই ‘বেস্পোক’ (Bespoke) প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এখন মার্কিন সামরিক নীতি-নির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।