Home Third Lead গুপ্তচরের ডায়েরি: পশুর নদীর অতল গহ্বর

গুপ্তচরের ডায়েরি: পশুর নদীর অতল গহ্বর

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৫

স্মৃতি হাসান 

নদীর জলরাশি এখন উত্তাল। পশুর নদীর মোহনায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, কিন্তু ভোরের আলোর কোনো চিহ্ন নেই। ঝোড়ো বাতাসের তোড়ে বকিবের পুরনো নৌকাটি খড়কুটোর মতো দুলছে। সাগর তার ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রেখে চিৎকার করে বলল, “আরিয়ান! আমরা একদম স্থানাঙ্কের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। ডায়েরির সিগন্যাল আর আমার সোনার ডিভাইসের রিডিং এখন ম্যাচ করছে। ঠিক আমাদের নিচেই সেই জাহাজটা আছে!”
আরিয়ান নৌকার কিনারে গিয়ে দাঁড়াল। টর্চের আলো ফেলতেই সে দেখল পানির ওপর পচে যাওয়া কিছু কাঠের টুকরো আর শেওলা ধরা লোহার অংশ ভেসে উঠছে। এটাই তাহলে সেই ‘এমভি ফিনিক্স’, যা ১৯৪৮ সাল থেকে এখানে নিঃশব্দে পড়ে আছে। ঠিক তখনই পেছন থেকে একটি জোরালো সার্চলাইটের আলো তাদের চোখ ধাঁধিয়ে দিল। ধাওয়া করা স্পিডবোটগুলো এখন মাত্র কয়েকশ গজ দূরে। মেগাফোনে সেই কর্কশ কণ্ঠস্বর আবার ভেসে এল, “আরিয়ান, ডায়েরিটা পানিতে ফেলে দাও! ওটা একটা ট্র্যাকার, ওটা যেখানে থাকবে আমরাও সেখানে পৌঁছে যাব। নিজেদের জীবন এভাবে দিও না!”
আরিয়ান ডায়েরিটা হাতে নিয়ে দেখল, তার শেষ পাতায় থাকা সেই ডিজিটাল কাউন্টডাউন এখন ‘০০:০২:১৫’-তে এসে দাঁড়িয়েছে। সে বুঝতে পারল, সময় শেষ হয়ে আসছে। “সাগর, আমাকে নিচে যেতেই হবে,” আরিয়ান দৃঢ় গলায় বলল। সে আগে থেকেই বকিবের কাছ থেকে একটি ছোট অক্সিজেন সিলিন্ডার আর মাস্ক জোগাড় করে রেখেছিল। সাগর আতঙ্কিত হয়ে বলল, “এই ঝড়ে তুই নিচে নামবি? এটা আত্মহত্যা হবে আরিয়ান!” কিন্তু আরিয়ানের চোখে তখন এক অদ্ভুত জেদ। সে জানে, এই ডায়েরি আর চাবির রহস্য সমাধান না করলে তারা কেউ জ্যান্ত ফিরতে পারবে না।
আরিয়ান নদীতে ঝাঁপ দিল। পানির নিচে রাজ্যের অন্ধকার আর হাড়কাঁপানো ঠান্ডা। টর্চের আলোয় সে দেখতে পেল জাহাজের কঙ্কালসার দেহটি। শেওলা আর বালিতে ঢাকা সেই বিশাল ধ্বংসস্তূপের মাঝখানে একটি কক্ষের দরজা আধখোলা। আরিয়ান ভেতরে ঢুকতেই দেখল একটি বিশাল লোহার সিন্দুক, যার মাঝখানে সেই একই ‘কাটা কম্পাস’ খোদাই করা। সে পকেট থেকে পিতলের চাবিটা বের করে সিন্দুকের ছিদ্রে ঢোকাল।
ঠিক তখনই পানির ওপর থেকে এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেল। আরিয়ান বুঝতে পারল, ওপরের নৌকাটিতে আক্রমণ শুরু হয়েছে। সে দ্রুত চাবিটা ঘোরাল। সিন্দুকটি খুলতেই ভেতর থেকে একটি বায়ুরোধী বক্স বেরিয়ে এল। কিন্তু তার ভেতরে সোনার বার নয়, বরং রাখা ছিল একটি মাইক্রোফিল্ম আর একটি দ্বিতীয় চাবি। আরিয়ান বক্সটি নিয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করতেই অনুভব করল কেউ একজন তার পা টেনে ধরছে। টর্চের আলো ঘুরিয়ে সে দেখল, ডুবুরির পোশাকে একজন শত্রু ইতিমধ্যেই নিচে পৌঁছে গেছে এবং তার হাতে একটি ধারালো ছুরি। পানির নিচে শুরু হলো এক অসম মরণপণ লড়াই।

পরবর্তী পর্বগুলো পড়তে ও আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে businesstoday24.com অনুসরণ করুন। মন্তব্যের মাধ্যমে আমাদের সাথেই থাকুন।

আমি কি ষষ্ঠ পর্বে আরিয়ানকে পানির নিচের এই লড়াই থেকে বাঁচিয়ে দ্বিতীয় চাবিটি নিয়ে কোনো গোপন দ্বীপে আশ্রয় নিতে দেখাব? আপনার মূল্যবান পরামর্শ দিন।