Home Third Lead চট্টগ্রাম-১৩: উত্তপ্ত নির্বাচনী মাঠ; ‘আওয়ামী ভোট’ নিয়ে নতুন জল্পনা

চট্টগ্রাম-১৩: উত্তপ্ত নির্বাচনী মাঠ; ‘আওয়ামী ভোট’ নিয়ে নতুন জল্পনা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও জোটের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন, অন্যদিকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক কোন দিকে যাবে—তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনে বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি বিশাল ও নীরব ভোটব্যাংক রয়েছে। এই ভোটাররা সরাসরি নির্বাচনী মাঠে না থাকলেও তাদের ভোট জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকদের অভিমত, আওয়ামী লীগের এই ভোটগুলো মূলত ‘স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি’ হিসেবে পরিচিত প্রার্থীদের বাক্সে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তারা কোনোভাবেই আদর্শিক বৈরী শক্তির কাছে ভোট দেবে না। এই সমীকরণটি বিএনপি ও সুন্নী জোটের প্রার্থীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও সহিংসতা
গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নে বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্টের প্রার্থী এস এম শাহজাহানের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আসবাবপত্র ভাঙচুর ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার এই ঘটনাকে নির্বাচনের জন্য ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ইসলামি ফ্রন্ট ও ছাত্রসেনার নেতাকর্মীরা এই হামলার জন্য একটি ‘পরিকল্পিত মহল’কে দায়ী করে সোমবার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
এনসিপি ও জামায়াতের দ্বন্দ্ব
চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াত প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় এর পাল্টা প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম-১৩ আসনে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষণা দিয়েছে, চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াত তাদের সমর্থন না দেওয়া পর্যন্ত আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে তারা জামায়াতের পক্ষে কাজ করবে না। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা জুবাইরুল আলমের এই ঘোষণা জামায়াত প্রার্থীর মাঠের অবস্থানে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
 প্রার্থীর অবস্থান ও জয়ের সম্ভাবনা
মাঠের বাস্তবতা ও প্রার্থীর পরিচিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
সরওয়ার জামাল নিজাম (বিএনপি): তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও দলীয় পরিচিতি অন্য সবার চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারণায় কিছুটা ধীরগতি থাকলেও তার সাথে অন্যদের ব্যবধান ‘আকাশ-পাতাল’।
এস এম শাহজাহান (সুন্নী জোট): মোমবাতি প্রতীক নিয়ে তিনি গ্রামে গ্রামে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং সুন্নী ভোটব্যাংকের কারণে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামী: মাহমুদুল হাসান। জোটের সমর্থন না থাকা এবং অতীত ভোটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী তারা এই আসনে বর্তমানে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম-১৩ আসনে লড়াইয়ের ত্রিমুখী আবহ থাকলেও সরওয়ার জামাল নিজামের জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি । আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক যদি শেষ মুহূর্তে ‘স্বাধীনতার পক্ষের’ কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে ভোটের ফল চমকপ্রদ হতে পারে বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।