কৃষ্ণা বসু, কলকাতা: বুধবার সকালেই ২০২১ ও ২০২৩ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার উদাহরণ টেনে তৃণমূলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই রাতেই নৃশংসভাবে খুন হলেন তাঁর দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় গাড়ির ভেতর তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। হৃদপিণ্ড ফুঁড়ে বেরিয়ে যায় বুলেট। এই ঘটনায় গাড়ির চালকও গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
ঘটনার ভয়াবহ বিবরণ
আদতে মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ দীর্ঘকাল ধরে মধ্যমগ্রামেই থাকছিলেন। বুধবার কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০ টার দিকে দোহাড়িয়া এলাকায় একটি নম্বর প্লেটহীন বাইকে করে আসা দুই দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ির পথ আটকায়। এরপরই গাড়ির কাচ লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালানো শুরু হয়। চন্দ্রনাথের বুক, পেট ও মাথায় একাধিক গুলি লাগে।
ভিভা সিটি হাসপাতালের কর্ণধার প্রতিম সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, দুটি গুলি চন্দ্রনাথের বুক ও হৃদপিণ্ড ফুঁড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক বাইকটির হদিস মিলেছে যাতে শিলিগুড়ির নম্বর প্লেট লাগানো ছিল, যা প্রাথমিক তদন্তে ভুয়ো বলে প্রমাণিত। পুলিশ ইতিমধ্যেই গুলিবিদ্ধ গাড়িটি এবং আগ্নেয়াস্ত্রের কার্টিজ উদ্ধার করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘাতকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
বিজেপির চরম হুঁশিয়ারি ও রাজনৈতিক উত্তাপ
এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে আগুন ধরেছে। ভিভা সিটি হাসপাতালের সামনে রাতেই জমায়েত হন সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী, অর্জুন সিং, শঙ্কর ঘোষ এবং কৌস্তভ বাগচীর মতো শীর্ষ বিজেপি নেতারা।
ব্যারাকপুরের জয়ী বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচী সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “পুরোটা মমতা-অভিষেকের নির্দেশে হয়েছে। এই ঘটনার পরিণাম তৃণমূলকে ভুগতে হবে। যতক্ষণ না দুষ্কৃতীরা গ্রেপ্তার হচ্ছে, দেহ দাহ করব না।” রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও এই খুনের পেছনে তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন।
রাজ্যজুড়ে হিংসার আগুন
কেবল মধ্যমগ্রাম নয়, একই রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের একাধিক প্রান্ত। একদিকে যখন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক খুন হলেন, ঠিক তখনই বসিরহাটে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক বিজেপি কর্মী। অন্যদিকে পানিহাটির ২ নম্বর ওয়ার্ডে বোমাবাজিতে জখম হয়েছেন অন্তত ৭ জন। ভোট মিটলেও পশ্চিমবঙ্গ যে আবারও সেই চেনা রক্তক্ষয়ী পথেই হাঁটছে, বুধবার রাতের এই ঘটনাপ্রবাহ তারই প্রমাণ দিচ্ছে।