হেলথ ডেস্ক: চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হলো বিশ্ব। চিনের উত্তর-পশ্চিম শানসি প্রদেশের একদল গবেষক জিন-এডিটেড বা কৃত্রিমভাবে বংশগতি পরিবর্তিত শূকরের লিভার ব্যবহার করে এক মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন। লিভার ফেইলিওরে আক্রান্ত ওই রোগীর শরীরে এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা চালিয়ে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়া গেছে।
চিকিৎসার অভিনব পদ্ধতি
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি কোনো প্রথাগত অঙ্গ প্রতিস্থাপন ছিল না। বরং ‘এক্সট্রাকর্পোরিয়াল পারফিউশন থেরাপি’ নামক এক বিশেষ পদ্ধতিতে রোগীর শরীরের বাইরে শূকরের লিভারটিকে স্থাপন করা হয়। এরপর একটি ‘নরমোথার্মিক মেশিন পারফিউশন’ ডিভাইসের মাধ্যমে রোগীর রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়াকে ওই লিভারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এর ফলে রোগীর নিজের লিভার শরীরে থাকা অবস্থাতেই বাইরের ওই জিন-এডিটেড লিভারটি সাময়িকভাবে রক্ত পরিশোধন ও বিপাকীয় কাজ সম্পন্ন করে।
সাফল্য ও বর্তমান অবস্থা
গবেষক দলটির মতে, এই প্রক্রিয়ার পর রোগীর লিভারের কার্যক্ষমতার সূচকগুলো দ্রুত উন্নত হতে শুরু করেছে। বর্তমানে রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল এবং তার শারীরিক ও জৈব রাসায়নিক প্যারামিটারগুলো স্বাভাবিকের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
মানবদেহে অন্য প্রাণীর অঙ্গ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার জটিলতা (Immune rejection) থাকে, জিন-এডিটিং প্রযুক্তির কারণে তা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এই সাফল্য লিভারের শেষ পর্যায়ের রোগীদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন:
এটি অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য অপেক্ষমান রোগীদের হাতে বাড়তি সময় এনে দেবে।
তীব্র লিভার ফেইলিওর রোগীদের জন্য এটি একটি শক্তিশালী সাপোর্ট সিস্টেম হিসেবে কাজ করবে।
ভবিষ্যতে মানব অঙ্গের তীব্র সংকট মেটাতে জিন-এডিটেড প্রাণীর অঙ্গ ব্যবহারের পথ আরও প্রশস্ত হলো।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে লিভারের পাশাপাশি কিডনি বা হৃদযন্ত্রের অকেজো রোগীদেরও চিকিৎসা করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে এখন বিশদ গবেষণা চলছে।