Home কলকাতা দক্ষিণ ভারতের চিকিৎসা খাতে বৈশ্বিক সংকটের ছায়া: বিপাকে রোগী

দক্ষিণ ভারতের চিকিৎসা খাতে বৈশ্বিক সংকটের ছায়া: বিপাকে রোগী

কৃষ্ণা বসু, চেন্নাই :

 দক্ষিণ ভারতের চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, ভেলোর এবং হায়দ্রাবাদ—এই শহরগুলো এখন কেবল চিকিৎসার কেন্দ্র নয়, বরং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির পরিবর্তনের এক নীরব সাক্ষী। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে আসা হাজার হাজার রোগীর জন্য বর্তমান পরিস্থিতি এক নতুন ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

  • বিমান ভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।
  • লজিস্টিক খরচ বাড়ায় হাসপাতালের প্যাকেজ মূল্য সমন্বয়ে বাধ্য হচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।
  • আবাসন সংকটে আবাসিক হোটেল মালিকদের ব্যবসায়িক মন্দা।

আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকটের ফলে দক্ষিণ ভারতের চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুর চিকিৎসা সেবা খাতে এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীদের ভোগান্তি এখন চরমে।

ঢাকার মিরপুর থেকে চেন্নাইয়ে লিভারের চিকিৎসা নিতে আসা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এক বছর আগে যখন এসেছিলাম, তখন যাতায়াত আর থাকা-খাওয়া মিলিয়ে যা খরচ হয়েছিল, এবার তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বিশেষ করে বিমান ভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। যুদ্ধের কারণে সবকিছুর দাম বাড়ায় আমাদের মতো রোগীদের এখন চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

চেন্নাইয়ের একটি বড় হাসপাতালের অপারেশন ম্যানেজার এস. ভেঙ্কটেশ জানান, “আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়ায় জীবন রক্ষাকারী অনেক যন্ত্রাংশ পেতে দেরি হচ্ছে। এর ফলে হাসপাতালের অপারেশনাল খরচ বেড়েছে, যার কিছুটা প্রভাব চিকিৎসার বিলের ওপরও পড়ছে।”

বেঙ্গালুরুর নিমহ্যান্স সংলগ্ন একটি আবাসিক হোটেলের মালিক রাঘব রেড্ডি বলেন, “আগে বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীদের ভিড় থাকত সবসময়। এখন মানুষ খরচের ভয়ে খুব জরুরি না হলে আসতে চাইছে না। জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুতের দাম ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ায় আমাদেরও রুম ভাড়া কিছুটা বাড়াতে হয়েছে, যার ফলে বুকিং আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। ব্যবসার এই মন্দা কাটিয়ে ওঠা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”

যাতায়াত ও জীবনযাত্রার এই বাড়তি খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক রোগী এখন তাদের নির্ধারিত চিকিৎসার মেয়াদ কমিয়ে দ্রুত দেশে ফিরে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে দক্ষিণ ভারতের চিকিৎসা পর্যটন খাত বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এত প্রতিকূলতার মাঝেও কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে সশরীরে ভ্রমণ কঠিন হয়ে পড়ায় অ্যাপোলো, ফোর্টিস বা মণিপাল-এর মতো বড় হাসপাতালগুলো এখন টেলি-কনসালটেশন এবং ডিজিটাল ফলোআপের ওপর জোর দিচ্ছে। অনেক বাংলাদেশি রোগী এখন প্রাথমিক পরামর্শ দেশ থেকেই অনলাইনের মাধ্যমে সেরে নিচ্ছেন, যাতে ভারতে অবস্থানের সময় কমানো যায়।

চেন্নাইয়ের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে তারা এখন দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশেষ করে বাংলাদেশের রোগীদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ এবং সহায়তা ডেস্ক আরও শক্তিশালী করছে যাতে সংকটের মাঝেও সেবা ব্যাহত না হয়।