বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আকস্মিক ঢাকা সফরকে একান্তই সৌজন্য ও শিষ্টাচার হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ সরকার। এই সফরকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন খোঁজা থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।
বেগম খালেদা জিয়ার গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে আলোকপাত করে তৌহিদ হোসেন বলেন, “শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে খালেদা জিয়ার একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সব মানুষের মাঝেই তার এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা আছে—যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও স্বীকার করে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এমন একজন ব্যক্তিত্বের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বিদেশি প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন, এটাই স্বাভাবিক। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সেই শিষ্টাচার থেকেই ঢাকায় এসেছিলেন। তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সফর শেষে ফিরে গেছেন।”
আলোচনায় ছিল না রাজনীতি
জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান: সফরে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। যা আলাপ হয়েছে, তা সবার সামনেই হয়েছে। দুই দেশের অমীমাংসিত বা দ্বিপাক্ষিক কোনো বিষয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।
সম্পর্কের বরফ কি গলবে?
ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে উপদেষ্টা কিছুটা রহস্য বজায় রাখেন। তিনি বলেন, “এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দূরত্ব কমবে কি না, তার উত্তর আপনাদের ভবিষ্যতে খুঁজতে হবে।”
কূটনৈতিক মহলের মতে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এই বক্তব্য মূলত ভারতের সাথে বর্তমান শীতল সম্পর্ককে এখনই অতিরিক্ত গুরুত্ব না দেওয়ার একটি কৌশল। জয়শঙ্করের সফরকে কেবল ‘শিষ্টাচার’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে সরকার এটি বোঝাতে চেয়েছে যে, বড় ধরনের কোনো নীতিগত পরিবর্তন বা সমঝোতা এই মুহূর্তে আলোচনার টেবিলে নেই।










