কারাগার থেকে ক্ষমতার শীর্ষে: যে নেতারা বদলে দিয়েছেন বিশ্ব
শামসুল ইসলাম:
বিশ্বের ইতিহাসে জোসেফ স্টালিন অন্যতম রহস্যময় এবং শক্তিশালী নেতা। সোভিয়েত ইউনিয়নের এই ‘লৌহমানব’ (Man of Steel) ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণের আগে জারের শাসনামলে বহুবার কারাবরণ ও নির্বাসনের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তার সংগ্রামী জীবন ও বারবার জেল পালানোর গল্প আজও ইতিহাসবিদদের বিস্মিত করে।
কারাবাসের প্রেক্ষাপট ও বারবার জেল পালানো
১৯০২ থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে স্টালিন মোট ৭ বার গ্রেফতার হন এবং বারবার তাকে রাশিয়ার সাইবেরিয়ার বরফঢাকা জনমানবহীন অঞ্চলে নির্বাসনে পাঠানো হয়। বলশেভিক পার্টির তহবিলের জন্য ব্যাংক ডাকাতি, ধর্মঘট এবং বিপ্লবী প্রচারণার দায়ে তাকে ‘বিপজ্জনক অপরাধী’ হিসেবে গণ্য করত জার সরকার।
কারাগারের দিনগুলো: অদম্য ও ভয়হীন
স্টালিনের কারাজীবন ছিল সাধারণ রাজবন্দীদের চেয়ে অনেক বেশি দুঃসাহসিক।
সফল পলায়ন: ৭ বার গ্রেফতার হলেও তিনি ৬ বারই কারাগার বা নির্বাসন থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। সাইবেরিয়ার মাইনাস ডিগ্রি তাপমাত্রায় কয়েকশ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে তিনি বারবার পার্টিতে ফিরে আসতেন।
কৌশলী নেতৃত্ব: জেলের ভেতরেও তিনি রাজবন্দীদের সংগঠিত করতেন। তার এই বারবার পালিয়ে আসার ক্ষমতা তাকে কমরেডদের কাছে কিংবদন্তিতে পরিণত করেছিল এবং তার ছদ্মনাম ‘স্টালিন’ (যার অর্থ ইস্পাত) সার্থক করে তুলেছিল।
মানসিক প্রস্তুতি: দীর্ঘ নির্বাসনে থাকা অবস্থায় তিনি মার্ক্সবাদী তত্ত্বে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন এবং ভবিষ্যতের সোভিয়েত ইউনিয়ন গড়ার রাজনৈতিক পরিকল্পনা সাজান।
ক্ষমতা ও বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব
১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের পর স্টালিন দ্রুত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। লেনিনের মৃত্যুর পর তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হন। তার নেতৃত্বেই সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানিকে পরাজিত করে এবং একটি কৃষিপ্রধান দেশ থেকে বিশ্বের অন্যতম সুপারপাওয়ারে পরিণত হয়।
আমাদের জন্য শিক্ষা
স্টালিনের প্রথম জীবনের সংগ্রাম শেখায় যে, চরম প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশ বা রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নও একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে থামিয়ে দিতে পারে না। পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং বারবার হার না মানার মানসিকতাই তাকে সাধারণ থেকে এক অপ্রতিরোধ্য নেতায় পরিণত করেছিল।