Home আন্তর্জাতিক ইরানের জন্য ট্রাম্পের ১৫টি শর্ত

ইরানের জন্য ট্রাম্পের ১৫টি শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে যে ১৫টি শর্ত বা পয়েন্ট পাঠিয়েছে, তার প্রধান বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত:
১. পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস: ইরানের বর্তমান সব পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে ফেলতে হবে।
২. অস্ত্র তৈরির প্রতিশ্রুতি ত্যাগ: ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এই মর্মে স্থায়ী লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে।
৩. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ: ইরানের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করা যাবে না।
৪. মজুত হস্তান্তর: বর্তমানে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (৬০% পর্যন্ত যা আছে) আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (IAEA) বুঝিয়ে দিতে হবে।
৫. স্থাপনা বন্ধ: নাতাঞ্জ, ইসফাহান এবং ফোরদোর মতো প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো স্থায়ীভাবে অকেজো বা ধ্বংস করতে হবে।
৬ পূর্ণ তদারকি: আইএইএ-কে (IAEA) ইরানের যেকোনো স্থানে যেকোনো সময় পরিদর্শনের অবাধ সুযোগ দিতে হবে।
আঞ্চলিক ও সামরিক ইস্যু:
৭. প্রক্সি নেটওয়ার্ক বন্ধ: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে (যেমন: হিজবুল্লাহ, হুতি) সাহায্য করা বন্ধ করতে হবে।
৮. অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ: আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থ, প্রশিক্ষণ বা উন্নত অস্ত্র দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
৯. হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা: আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য কৌশলগত হরমুজ প্রণালী সব সময় উন্মুক্ত রাখার গ্যারান্টি দিতে হবে।
১০. ক্ষেপণাস্ত্র সীমাবদ্ধতা: ইরানের ব্যালেস্টিক মিসাইলের পাল্লা এবং সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে।
১১. প্রতিরক্ষামূলক ব্যবহার: ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার কেবল নিজেদের আত্মরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র যা দিচ্ছে:
১২. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ইরানের ওপর থাকা সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। ১৩. বেসামরিক পারমাণবিক সহায়তা: বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো শান্তিপূর্ণ কাজে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।
১৪. অর্থনৈতিক বিনিয়োগ: ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনে এবং তেল-গ্যাস খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া হবে।
১৫. নিরাপত্তা গ্যারান্টি: ইরান এই শর্তগুলো মেনে চললে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আর কোনো সামরিক হামলা চালাবে না।

ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে ইরান সরকার এখন পর্যন্ত “একতরফা” এবং “অগ্রহণযোগ্য” বলে নাকচ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল এই শান্তি প্রস্তাবের অনেকগুলো পয়েন্ট নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।