বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম-৭) আসনের নির্বাচনি সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে দীর্ঘ দেড় দশকের শাসক দল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় এবং দলটির কোনো প্রার্থী নির্বাচনি ময়দানে না থাকায় দীর্ঘ সময় পর এখানে একটি ভিন্নধর্মী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ তৈরি হয়েছে।
এই শূন্যতায় ক্লিন ইমেজ এবং পেশাগত পরিচিতি নিয়ে ভোটারদের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে আসার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিম।
১. সেবার হাত ধরে রাজনীতিতে পদার্পণ
ডা. এ টি এম রেজাউল করিমের মূল পরিচয় তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক। চট্টগ্রামের সুপরিচিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পার্ক ভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে নিজের প্রশাসনিক ও মানবিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং একজন ‘মানবদরদী চিকিৎসক’ হিসেবে সুপরিচিত। করোনাকালীন দুর্যোগসহ বিভিন্ন সময়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তা প্রদান তাকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে গেছে।
২. “নতুন রাঙ্গুনিয়া” গড়ার অঙ্গীকার
এবারের নির্বাচনে ডা. রেজাউল করিমের প্রধান স্লোগান হলো “নতুন রাঙ্গুনিয়া গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন”। তিনি তাঁর নির্বাচনি প্রচারণায় গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ওপর জোর দিচ্ছেন। তাঁর প্রচারণার মূল ভিত্তিগুলো হলো:
বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা: রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি জনপদে আধুনিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং জটিল রোগীদের জন্য উন্নত রেফারেল সিস্টেম চালু করা।
তথ্যপ্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান: তরুণদের কেবল রাজনীতির হাতিয়ার না বানিয়ে তাদের আইটি ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে তোলা।
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান: বিভেদ ও সংঘাতের পুরনো রাজনীতি ভুলে একটি নিরাপদ ও সম্প্রীতির রাঙ্গুনিয়া গড়ে তোলা।
৩. আওয়ামী লীগ-উত্তর রাজনৈতিক সমীকরণ
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর এই আসনে রাজনৈতিক একক আধিপত্যের অবসান ঘটেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচনে এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং জামায়াত মনোনীত ডা. রেজাউল করিমের মধ্যে। ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, বিগত বছরগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতার পর এবার তারা এমন একজন প্রতিনিধি চান যিনি শিক্ষিত, মার্জিত এবং সহজে যাঁকে পাওয়া যাবে, যাঁর কাছে যাওয়া যাবে এমন।
৪. তরুণ ও নিরপেক্ষ ভোটারদের নজর
রাঙ্গুনিয়ার তরুণ প্রজন্মের মাঝে ডা. রেজাউল করিমের এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা প্রথমবার ভোট দেবেন বা যারা গতানুগতিক দলীয় আনুগত্যের বাইরে ‘যোগ্য প্রার্থী’ খুঁজছেন, তাদের কাছে তাঁর চিকিৎসক পরিচয় ও পার্ক ভিউ হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
চট্টগ্রাম-৭ আসনে জামায়াত প্রথমদিকে প্রার্থী ঘোষণা করে অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামানকে। বার্ধক্যজনিত কারণে অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান কেন্দ্রীয় জামায়াতের কাছে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। কেন্দ্রীয় নির্বাচনী বোর্ড তার আবেদন বিবেচনা করে ডা. এ টি এম রেজাউল করিমকে মনোনয়ন দেয়। রেজাউল করিম হলেন অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান-এর ভাগ্নে। রাঙ্গুনিয়া ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনেরও চেয়ারম্যান ডা. রেজাউল।
সংক্ষেপে প্রার্থী পরিচিতি:
- নাম: ডা. এ টি এম রেজাউল করিম।
- পেশা: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পার্ক ভিউ হাসপাতাল।
- রাজনৈতিক পরিচয়: জামায়াত মনোনীত প্রার্থী (চট্টগ্রাম-৭)।
- লক্ষ্য: উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নির্ভর ‘স্মার্ট রাঙ্গুনিয়া’ গঠন।










