Home নির্বাচন ঢাকা-৬:ভোট কেনার সময় আটক জামায়াতের নায়েবে আমির

ঢাকা-৬:ভোট কেনার সময় আটক জামায়াতের নায়েবে আমির

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ঢাকা-৬ আসনের একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে টাকা বিতরণের অভিযোগে সূত্রাপুর থানা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. হাবিবকে দুদিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টার ভোটকেন্দ্রের সামনে স্থানীয় জনগণ তাকে আটক করার পর এ সাজা প্রদান করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সূত্রাপুরের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার একটি চালের দোকানের ভেতর ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ করছিলেন হাবিব। এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে হাবিবকে দুই দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সাজাপ্রাপ্ত হাবিবের কাছ থেকে নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও
টাকা বিতরণের একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চালের দোকানের ভেতর এক ব্যক্তি ১০০ টাকার নোট খামের ভেতর ভরছেন। উপস্থিত জনতা এর কারণ জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, “ভোট চ্যালেঞ্জ করার সরকারি ফি ১০০ টাকা জমা দেওয়ার জন্য এই অর্থ রাখা হচ্ছে।”
তবে উপস্থিত কেউ যখন প্রশ্ন করেন, “প্রতিটি খামে কেন ৫০০ টাকা করে রাখা হয়েছে?”—তখন তাকে নীরব থাকতে দেখা যায়।
জামায়াত প্রার্থীর পাল্টা দাবি ও সংবাদ সম্মেলন
এ ঘটনার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন ঢাকা-৬ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান। তিনি টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন।
ড. মান্নান বলেন:
মব তৈরির অভিযোগ: জাল ভোট চ্যালেঞ্জ করার ফি হিসেবে পোলিং এজেন্টদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ খামে রাখার সময় বিএনপির লোকজন এসে পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ তৈরি করে।
হামলার দাবি: এই ঘটনায় তাদের তিন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং জুবলি স্কুল কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের কার্ডে স্বাক্ষর করতে বাধা দিয়ে মারধর করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: এই আসনের ২১টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে এখনো সিসি ক্যামেরা স্থাপন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, মব তৈরি ও এজেন্টদের ওপর হামলার ঘটনায় নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে রাতেই লিখিত অভিযোগ দাখিল ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।