বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াল থাবা থেকে বাঁচাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’-এর নতুন সংশোধনীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে যে কোনো ধরনের তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি ও বিপণন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি গেজেটে এই নতুন আইন অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শর্ত ভঙ্গ করলে তাৎক্ষণিক জেল-জরিমানা: আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা বিক্রেতা যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান বা শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক পণ্য বিক্রি করেন, তবে তিনি অনূর্ধ্ব ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে দণ্ড পর্যায়ক্রমিকভাবে দ্বিগুণ হবে। প্রয়োজনে সরকার বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এই সীমানার পরিধি আরও বৃদ্ধি করতে পারবে।
বিড়ি উৎপাদনে ‘কুন্তি’ ও ‘তেন্ডু’ পাতার ব্যবহার নিষিদ্ধ: নতুন আইনে বিড়ি শিল্পের কাঁচামালেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে কুন্তি পাতা, তেন্ডু পাতা বা অন্য কোনো গাছের পাতা দিয়ে মোড়ানো বিড়ি উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাত করা যাবে না। শুধুমাত্র কাগজ দিয়ে মোড়ানো বিড়ি প্রচলিত আইন অনুযায়ী উৎপাদিত হতে পারবে। কুন্তি বা তেন্ডু পাতার বিড়ি ব্যবহারকারীর ওপর ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
আসক্তিমূলক মিশ্রণে কঠোর বাধা: তামাকজাত দ্রব্যের সাথে কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক দ্রব্য বা মিশ্রণ যুক্ত করা যাবে না। যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তামাকের সাথে এমন কোনো রাসায়নিক বা আসক্তিমূলক উপাদান যোগ করেন যা জনস্বাস্থ্যের জন্য আরও বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে, তবে তাদের অনূর্ধ্ব ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
আইন প্রয়োগে বিশেষ ক্ষমতা: সংশোধিত আইনে তামাক বিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এখন থেকে যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে তামাকের বিজ্ঞাপন দেয় বা প্রচারণা চালায়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার আগাম নোটিশ ছাড়াই সেই প্রচারণা সামগ্রী বা উপকরণ অপসারণ করতে পারবে। এই কাজে প্রয়োজনে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় সহায়তা নেওয়া যাবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে তামাকের সহজলভ্যতা বন্ধ করা ছিল সময়ের দাবি। এই আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে।