Home আন্তর্জাতিক পাকিস্তানে তুরস্কের সামরিক ছায়া: বন্ধুত্ব না বার্তা?

পাকিস্তানে তুরস্কের সামরিক ছায়া: বন্ধুত্ব না বার্তা?

বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক: পাকিস্তান-তুরস্ক সম্পর্ক ক্রমেই সামরিক ছায়া ঘনিয়ে তুলছে। গত রবিবার করাচি বন্দরে এসে নোঙর ফেলেছে তুরস্কের যুদ্ধজাহাজ ‘টিসিজি বাইকাদা (F-512)’।  জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, টর্পেডো ও হেলিকপ্টার ডেকে সজ্জিত এই রণতরী। ৭ মে পর্যন্ত করাচিতে অবস্থান করে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর সঙ্গে মহড়ায় অংশ নেবে এই কর্ভেট।

পাকিস্তান একে ‘শুভেচ্ছা সফর’ বললেও অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি নিছক ভ্রাতৃসুলভ সাক্ষাৎ নয়। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগেই পাকিস্তানে অবতরণ করে ছয়টি তুর্কি C-130 সামরিক বিমান। যদিও আঙ্কারা দাবি করেছে, মাত্র একটি বিমান জ্বালানি ভরার জন্য এসেছিল। অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করেছে তারা।

তবে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ভিন্ন ইঙ্গিত। পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা ক্রমশই ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধে দাঁড়িয়ে থাকা এই জোট সামরিক দিক থেকেও দৃঢ়।

গত পাঁচ বছরে পাকিস্তানের প্রতি তুরস্কের সামরিক সহায়তা ক্রমে বৃদ্ধি পেয়েছে। তুরস্কের অস্ত্র রপ্তানির দশ শতাংশ পায় পাকিস্তান। দুই দেশের মধ্যে একাধিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে। পাকিস্তানকে চারটি ‘মিলজেম-শ্রেণির কর্ভেট’ সরবরাহ করেছে তুরস্ক।

নজরদারির জন্য তুরস্কে তৈরি ‘বেরাক্টর টিবি২’ এবং ‘আকিনসি’ ড্রোন ব্যবহার করে পাকিস্তান। পাকিস্তানের এস-১৬ যুদ্ধবিমানগুলি চালনা উন্নত করেছে। ২০২৪ সালে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রের যৌথ বিকাশের জন্য চুক্তি করেছে তুরস্ক ও পাকিস্তান।

 পাশাপাশি কাশ্মীর ইস্যুতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রকাশ্য সমর্থন এশিয়ার এই দুই মুসলিম শক্তির কূটনৈতিক বন্ধনকেও তুলে ধরছে।

পর্যবেক্ষকদের প্রশ্ন—এই সামরিক সফরগুলো কি নিছক সৌজন্য? নাকি দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির নতুন ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে?