Home অন্যান্য ঋষিদের পালকি ও নহুষের অভিশপ্ত সর্প জীবন

ঋষিদের পালকি ও নহুষের অভিশপ্ত সর্প জীবন

কাহিনী: স্বর্গরাজ ইন্দ্র যখন ব্রহ্মহত্যার পাপ থেকে মুক্ত হতে তপস্যায় মগ্ন ছিলেন, তখন স্বর্গলোক রাজা শূন্য হয়ে পড়ে। দেবতারা যোগ্য শাসক হিসেবে মর্ত্যের পরম ধার্মিক ও শক্তিশালী রাজা নহুষকে ইন্দ্রের পদে অভিষিক্ত করেন। কিন্তু স্বর্গের অফুরন্ত ঐশ্বর্য ও ক্ষমতা পেয়ে নহুষের মতিভ্রম ঘটে।
তিনি অত্যন্ত অহংকারী ও বিলাসী হয়ে ওঠেন। নহুষের লালসা এতটাই বেড়ে যায় যে তিনি ইন্দ্রপত্নী শচীকে নিজের আয়ত্তে আনতে চান। শচী দেবগুরু বৃহস্পতির পরামর্শে নহুষকে একটি কঠিন শর্ত দেন—নহুষ যদি সপ্তর্ষিদের দ্বারা বাহিত পালকিতে চড়ে তার কাছে আসেন, তবেই তিনি তাকে গ্রহণ করবেন।
অহংকারে অন্ধ নহুষ সপ্তর্ষিদের (সাতজন মহান ঋষি) পালকি টানার নির্দেশ দেন। ঋষিরা যখন পালকি নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন উত্তেজনার বশে নহুষ ঋষি অগস্ত্যকে উদ্দেশ্য করে ‘সর্প সর্প’ (দ্রুত চলো) বলে লাথি মারেন।
ঋষিদের অপমান করায় ক্রুদ্ধ হয়ে অগস্ত্য মুনি তাকে অভিশাপ দেন, “যেহেতু তুমি ঋষিদের অসম্মান করেছ এবং আমাকে ‘সর্প’ বলেছ, তাই তুমি এখনই স্বর্গচ্যুত হয়ে মর্ত্যে অজগর সাপ হয়ে পড়ে থাকবে।”
মুহূর্তের মধ্যে নহুষের স্বর্গীয় রূপ বিলীন হয় এবং তিনি বিশাল এক সাপে পরিণত হয়ে নিচে পড়ে যান।