Home First Lead ঈদের বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের ‘নীলনকশা’: প্রতারণা রুখতে ৪ দফা প্রস্তাব

ঈদের বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের ‘নীলনকশা’: প্রতারণা রুখতে ৪ দফা প্রস্তাব

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: পবিত্র মাহে রমজান আসতে দু’সপ্তাহর প্রায় কাছাকাছি বাকি। জাতীয় নির্বাচনের তোড়জোড়ের মধ্যে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে  বইছে ঈদের আগাম হাওয়া। এই উৎসবকে পুঁজি করে প্রতিবছরের মতো এবারও ‘অতিরিক্ত মুনাফা’র পাহাড় গড়ার নীলনকশা সাজাচ্ছেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।
সচেতন মহলের আশঙ্কা, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে রোজা শুরুর পর বাজার নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই ‘মূল্য সন্ত্রাস’ রুখতে এখনই প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
চট্টগ্রামের টেরিবাজার, রিয়াজুদ্দিন বাজার, জহুর হকার্স মার্কেট থেকে শুরু করে মিমি সুপার মার্কেট ও আফমি প্লাজা, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স, সেন্ট্রাল প্লাজা, আকতারুজ্জামান সেন্টারের মতো অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতে এখন সাজসাজ রব। তবে এই জৌলুসের আড়ালে চলছে ভয়াবহ মূল্য কারসাজির প্রস্তুতি।
ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরগুলোতে দেখা গেছে যে পোশাকের পাইকারি দাম ৭০০-৮০০ টাকা, শোরুমগুলোতে সেটির গায়ে ৩০০০-৪০০০ টাকার ‘প্রাইস ট্যাগ’ লাগিয়ে দেওয়া হয়। কোনো ক্রেতা দরদাম করে সেটি ২৫০০ টাকায় কিনতে পারলে ভাবেন তিনি জিতেছেন, অথচ প্রকৃতপক্ষে তিনি কয়েক গুণ বেশি দামে প্রতারিত হচ্ছেন। পোশাকের পাশাপাশি জুতা ও প্রসাধনীর ক্ষেত্রেও চলে একই ধরনের কৌশলী ‘ডাকাতি’।
চকবাজার এলাকায় কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী শায়লা পারভীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রোজা শুরু হলে ভিড়ের সুযোগে ব্যবসায়ীরা কারসাজি বাড়ায়। তখন প্রশাসন চাইলেও তদারকি করতে পারে না। এখনই প্রতিটি দোকানের কেনা দামের রসিদ (ভাউচার) চেক করা উচিত।”
বাজার নিয়ন্ত্রণে ৪ দফা দাবি
নৈরাজ্য ঠেকাতে সাধারণ ভোক্তারা প্রশাসনের কাছে ৪টি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
১. ক্রয় চালান প্রদর্শন: প্রতিটি দোকানে পণ্যের প্রকৃত ক্রয় ভাউচার প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা। ২. মুনাফার সীমা নির্ধারণ: পোশাক ও জুতায় সর্বোচ্চ কত শতাংশ লাভ করা যাবে, তা এখনই সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া।
৩. তড়িৎ মোবাইল কোর্ট: রমজানের অপেক্ষা না করে এখনই বাজার তদারকিতে নিয়মিত অভিযান চালানো।
৪. দোকান সিলগালা: প্রতারণা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি পুরো রমজান মাসের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, ব্যবসায়ীরা যখন পণ্য মজুত করেন, সেই স্তর থেকেই তদারকি শুরু করা জরুরি। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া কেবল রোজা শুরুর পর অভিযান চালিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা বন্ধ করা যাবে না।
প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, বাজার মনিটরিংয়ের জন্য তারা একটি আগাম ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।