Home First Lead পুঁজিবাজারে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার বিএনপির: বিশেষ তদন্ত ও সংস্কার কমিশন হবে

পুঁজিবাজারে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার বিএনপির: বিশেষ তদন্ত ও সংস্কার কমিশন হবে

বিজনেসটুডে২৪প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি তাদের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে পুঁজিবাজার বা শেয়ারবাজারকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার এক মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই ইশতেহারে গত ১৫ বছরের অনিয়ম তদন্তসহ বাজারের স্বচ্ছতা ও গভীরতা বাড়াতে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে।
বিগত ১৫ বছরের অনিয়ম তদন্তে বিশেষ কমিশন
ইশতেহারে বিএনপি অঙ্গীকার করেছে, ক্ষমতায় গেলে গত ১৫ বছরে পুঁজিবাজারে সংঘটিত সকল অনিয়ম ও কারসাজি তদন্তে একটি ‘বিশেষ তদন্ত কমিশন’ গঠন করা হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি বাজারের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের জন্য একটি স্থায়ী ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি ও স্বায়ত্তশাসন
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি-র পূর্ণ স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। বাজারে কৃত্রিম কারসাজি ও ইনসাইডার ট্রেডিং বন্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক নজরদারি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতে দ্রুত কার্যকর করা হবে ‘পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনাল’
বন্ড মার্কেট ও গ্রিন ফিন্যান্সের ওপর জোর
বাজারের গভীরতা বাড়াতে কেবল ইকুইটি শেয়ারের ওপর নির্ভর না থেকে শক্তিশালী বন্ড মার্কেট তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে:
  • ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার ‘গ্রিন বন্ড’ ইস্যু করা হবে।
  • ইসলামিক বন্ড বা সুকুক এবং এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETF) চালু করা হবে।
  • কর্পোরেট বন্ডের পরিধি বাড়ানো হবে।
প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগে বিশেষ পোর্টাল
প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ সহজ করতে ‘এনআরবি ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে’ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট (FPI)’ অনবোর্ডিং পোর্টাল চালু করা হবে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ও পুঁজিবাজারের মূলধন বৃদ্ধি করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য।
স্টার্টআপদের জন্য ‘ডিজিটাল আইপিও এক্সপ্রেস’
নতুন উদ্যোক্তা ও এসএমই খাতের জন্য তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া সহজ করতে বিএনপি ‘ডিজিটাল আইপিও এক্সপ্রেস’ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর ফলে যোগ্য স্টার্টআপগুলো মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে।
বিনিয়োগকারী শিক্ষা ও সুরক্ষা
বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে শিক্ষা কারিকুলামে পুঁজিবাজার বিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি ‘হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা’ ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। ইশতেহারে সুস্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ব্যাংক বা আর্থিক খাতের কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।
 বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিএনপির এই ইশতেহারে গতানুগতিক সংস্কারের বাইরে প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি এবং গ্রিন বন্ডের মতো আধুনিক আর্থিক সরঞ্জামের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতে পারে।