২০২৬ সালের শুরুতেই বিশ্ব পোশাক অর্থনীতির সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দীর্ঘদিনের শীর্ষ রপ্তানিকারক চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।
অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে এই চমকপ্রদ চিত্র উঠে এসেছে।
রপ্তানি পরিসংখ্যান ও অবস্থান
ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। অন্যদিকে, একই সময়ে চীনের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, আয়তনের বিচারে চীনকে ২০ কোটি ডলার ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। তবে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি নিয়ে বাজারে শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে ভিয়েতনাম।
উদ্যোক্তা ও শিল্পমালিকদের পর্যবেক্ষণ
এ বিষয়ে তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, চীন থেকে মার্কিন ক্রেতাদের অর্ডার সরে আসা বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। পোশাক শিল্পমালিকদের মতে, মার্কিন বাজারে চীনের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে ক্রেতারা এখন নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নিচ্ছেন।
তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন যে, অর্ডারের সংখ্যা বাড়লেও পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারের মন্দার দোহাই দিয়ে ক্রেতারা দাম কমিয়ে দিতে চাইছেন, যা মোকাবিলায় সম্মিলিত দরকষাকষির ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
শ্রমিক নেতাদের উদ্বেগ ও দাবি
রপ্তানি বাড়লেও এর সুফল তৃণমূল পর্যায়ের শ্রমিকদের কাছে কতটা পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। তাদের মতে, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি বা অবস্থানের উন্নতি তখনই সার্থক হবে যখন শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
তারা বলছেন, উৎপাদন বাড়ার সাথে সাথে কাজের চাপ বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের বেতন বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আশানুরূপ বাড়েনি। বিশেষ করে নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং উৎসব ভাতার মতো বিষয়গুলোতে মালিকপক্ষকে আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের এই বিশাল বাজার ধস (৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ হ্রাস) মূলত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফল। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ এখন যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, তা ধরে রাখতে হলে কেবল সাধারণ মানের পোশাকের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। ভিয়েতনাম যেভাবে উচ্চমূল্যের ও শৌখিন পোশাকে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করেছে, বাংলাদেশকেও সেই পথে হাঁটতে হবে। কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেইড ফাইবারের পোশাক উৎপাদনে বিনিয়োগ না বাড়ালে এই অবস্থান দীর্ঘমেয়াদী করা কঠিন হতে পারে।
মার্কিন বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি
বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানিতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। বছরের প্রথম দুই মাসে দেশটি বিশ্ববাজার থেকে মোট ১১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম। এই নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও শীর্ষ তিনে থাকা দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনাম একমাত্র দেশ হিসেবে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে।
আরও নানা বিষয় জানতে ভিজিট করুন: www.businesstoday24.com। আমাদের প্রতিবেদনগুলো নিয়মিত পড়তে ওয়েবসাইটটি ফলো করুন এবং আপনার মতামত দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।