প্রথম প্রেমের চড়া মূল্য দিলেন মাহমুদ
আনোয়ার আহমেদ, কুয়ালালামপুর: “ভালোবাসা কোনো সীমানা মানে না”—এই প্রবাদটিই যেন কাল হয়ে দাঁড়াল ৩১ বছর বয়সী বাংলাদেশি যুবক মাহমুদের জন্য। ইন্দোনেশিয়ান প্রেমিকাকে বিয়ে করে সুমাত্রা থেকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় ফেরার পথে দেশটির কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়েছেন তিনি।
শুক্রবার ভোরে সেলাঙ্গর মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (MMEA) সাবাক বেরনাম উপকূল থেকে একটি কাঠের সমতল নৌকা (পম-পম বোট) আটক করে। ওই নৌকায় থাকা ৭৮ জন অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে মাহমুদও ছিলেন।
জোহর বারুর একটি খাদ্য উৎপাদন কারখানায় কর্মরত মাহমুদ দাবি করেন, মালয়েশিয়ায় তার বৈধ পাসপোর্ট এবং কাজের পারমিট রয়েছে। তবে ইন্দোনেশিয়ার ভিসা পাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় তিনি অবৈধ পথ বেছে নেন।
তিনি জানান, জোহর বারুতে থাকাকালীন ২০২২ সালে এক ইন্দোনেশিয়ান তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়, যিনি সেখানে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। মাহমুদ তাকে নিজের “প্রথম ভালোবাসা” হিসেবে উল্লেখ করেন। গত ডিসেম্বরে মেদান (সুমাত্রা) গিয়ে তাকে বিয়ে করার জন্য মাহমুদের ওপর কনে ও তার পরিবারের প্রচণ্ড চাপ ছিল।
তিনি বলেন, “সে আমার প্রথম ভালোবাসা। তাই তাকে বিয়ে করতে আমি সিন্ডিকেটের সাহায্য নিয়ে সুমাত্রা গিয়েছিলাম। বিয়ের পর এক মাস স্ত্রীর সাথে সময় কাটিয়ে কাজে যোগ দিতে মালয়েশিয়ায় ফিরছিলাম।”
এই অবৈধ যাতায়াতের জন্য মাহমুদ একটি মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটকে প্রায় ১,১৭০ রিঙ্গিত (মালয়েশিয়ান মুদ্রা) প্রদান করেন।
সেলাঙ্গর MMEA-এর উপ-পরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ ফাইরুস নিজাম আব্দুল রাজাক জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুঙ্গাই এয়ার তাওয়ার উপকূল থেকে ৩ নটিক্যাল মাইল দূরে নৌকাটি আটক করা হয়। নৌকাটি সুমাত্রার বাতু বারা মৎস্য জেটি থেকে সেলাঙ্গর উপকূলের দিকে আসছিল।
আটককৃত ৭৮ জনের মধ্যে মাহমুদ ছাড়া বাকি ৭৭ জনই ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক (৪৯ জন পুরুষ ও ২৯ জন নারী)। তাদের বয়স ১৪ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। মেরিটাইম টহল দল যখন নৌকাটি তল্লাশির জন্য এগিয়ে যায়, তখন নৌকার চালক (স্কিপার) পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আটককৃতদের বর্তমানে পালু ইন্দাহর মেরিন পুলিশ জেটিতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ পথে প্রবেশ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিরোধী আইনের আওতায় তদন্ত চলছে।










