বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পরিচয় থেকে প্রেম, আর সেই প্রেমের টানে দেখা করতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাঁও এলাকায় গত সোমবার রাতে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ৪ তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী কিশোরী নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর সৎ মায়ের সংসারে বড় হওয়া এই কিশোরী নির্যাতনের মুখে দু’মাস আগে বাড়ি ছেড়ে ময়মনসিংহে চলে আসে। সেখানে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ শুরু করে সে।
পুলিশ জানায়, গত ৬ মাস ধরে ‘জিসান ইসলাম’ নামের একটি ফেসবুক আইডির সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের টানেই গত ১৪ মার্চ রাতে সে ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে আসে। সেখান থেকে তাকে সিএনজিতে করে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চারজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যায়।
পুলিশের তৎপরতা ও গ্রেপ্তার
ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি ও থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো—
- মো. হোসাইন (২১)
- মো. ফারুক আহাম্মেদ (১৭)
- মো. আরিফ (১৭)
- মো. মেহেদী হাসান (২০)
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে। ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিভাবকদের উদ্বেগ ও সতর্কবার্তা
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কিশোর-কিশোরীদের এমন নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। তারা মনে করেন, ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত না করতে পারলে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
সতর্কতামূলক কিছু বক্তব্য:
“এখনকার যুগে সন্তানদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়া যতটা সহজ, তার তদারকি করা ততটাই কঠিন। আমাদের উচিত সন্তান অনলাইনে কার সাথে কথা বলছে বা মিশছে সেদিকে কড়া নজর রাখা।” — আব্দুর রহমান, স্থানীয় এক অভিভাবক।
“অপরিচিত আইডি বা ভুয়া পরিচয়ে গড়ে ওঠা সম্পর্কের পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই ঘটনা তার প্রমাণ। সন্তানদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে যেন তারা কোনো বিপদে পড়ার আগেই আমাদের জানাতে পারে।” — ফাতেমা বেগম, একজন সচেতন মা।
“ফেসবুকের ‘ভার্চুয়াল দুনিয়া’ আর ‘বাস্তব পৃথিবী’ এক নয়—এই বোধটুকু কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে তৈরি করতে হবে। অপরিচিত কারো ডাকে একা কোথাও যাওয়া যে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, তা বারবার তাদের বোঝানো প্রয়োজন।” — নাসির উদ্দিন, শিক্ষক ও অভিভাবক।









