শুধু ঘর সাজানো নয়, ড্রোন এবং হাইস্পিড ট্রেনের বগিও হচ্ছে বাঁশ দিয়ে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চীনের আকাশ থেকে মাটি—সবখানেই এখন বাঁশের জয়জয়কার। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে চীন তাদের বিশাল বাঁশ সম্পদকে এক অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সম্প্রতি তিয়ানজিনে বাঁশের তৈরি ডানা বিশিষ্ট একটি ড্রোন সফলভাবে আকাশে উড়িয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে দেশটি। ‘লো-অল্টিচিউড ইকোনমি’ বা নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতিতে এই ড্রোন এক বিশাল মাইলফলক।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ব্যাম্বু অ্যান্ড র্যাটান-এর পরিচালক কিন দাওচুন জানান, এই ড্রোনের কাঠামোর ২৫ শতাংশেরও বেশি তৈরি হয়েছে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বাঁশের কম্পোজিট উপাদান দিয়ে।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এটি সাধারণ কার্বন ফাইবারের তুলনায় ২০ শতাংশ হালকা এবং এর খরচ কার্বন ফাইবারের মাত্র চার ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ স্থায়িত্বের পাশাপাশি এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী।
বর্তমানে চীনে প্রায় ৮০ লাখ হেক্টর জমিতে বাঁশ বাগান রয়েছে, যেখান থেকে বছরে ১৫ কোটি টন বাঁশ উৎপাদিত হয়। ২০২২ সালে ‘প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে বাঁশ’ (Replace Plastic with Bamboo) শীর্ষক বৈশ্বিক উদ্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকে এই শিল্প আরও গতি পেয়েছে।
বর্তমানে চীনে ১৫ হাজারেরও বেশি ক্যাটাগরির বাঁশজাত পণ্য তৈরি হচ্ছে এবং এই খাতের বার্ষিক উৎপাদন মূল্য ৫২০ বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে গেছে।
বাঁশের ব্যবহার এখন আর কেবল ঝুড়ি বা কুটির শিল্পে সীমাবদ্ধ নেই। জিয়াংজি প্রদেশে বাঁশের তৈরি পাইপ অর্গান তৈরি হচ্ছে যা থেকে মুগ্ধকর সুর ভেসে আসে। আবাসন শিল্পে স্টিল ও সিমেন্টের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বাঁশের তৈরি বিশালাকার পাইপ।
সিচুয়ান প্রদেশে ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তায় বাঁশের তৈরি ভূগর্ভস্থ পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রচলিত উপকরণের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই এবং সাশ্রয়ী। এমনকি ইলেকট্রিক গাড়ির ইন্টেরিয়র এবং ব্যাটারির অ্যানোড তৈরিতেও বাঁশ ব্যবহার করছে চীনা গবেষকরা।
চীনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ মানুষ জড়িত। শুধু পণ্য উৎপাদন নয়, বাঁশকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে পর্যটন কেন্দ্রও। ফুজিয়ান এবং সিচুয়ান প্রদেশে বাঁশ-কেন্দ্রিক পর্যটন থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার আয় হচ্ছে।
পরিবেশবান্ধব এই সমাধান এখন চীনের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ববাজারেও ছড়িয়ে পড়ছে। ২০২৫ সালে চীনের বাঁশজাত টেবিলওয়্যারের রপ্তানি ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রমাণ করে যে ভবিষ্যৎ পৃথিবী হবে প্লাস্টিকমুক্ত এবং সবুজ।
businesstoday24.com অনুসরণ করুন এবং এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।