Home আন্তর্জাতিক বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের রহস্যভেদ? মিথেন গ্যাসের নতুন তত্ত্ব যা বলছে

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের রহস্যভেদ? মিথেন গ্যাসের নতুন তত্ত্ব যা বলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল—আটলান্টিক মহাসাগরের এই রহস্যময় অঞ্চলটি গত ৫০০ বছর ধরে নাবিক এবং বিজ্ঞানীদের কাছে এক বড় ধাঁধা। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই রহস্যের একটি প্রাকৃতিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে, যা কোনো ভিনগ্রহের প্রাণী বা অভিশাপ নয়, বরং সমুদ্রের তলদেশের মিথেন গ্যাস নিঃসরণকে দায়ী করছে।

কী এই নতুন তত্ত্ব?
‘হোয়াট ইফ সায়েন্স’-এর গবেষক রোনাল্ড কাপার জানান, সমুদ্রের তলদেশ থেকে নির্গত মিথেন হাইড্রেট বা মিথেন গ্যাসের বিশাল উদগিরণ এই রহস্যের মূল কারণ হতে পারে।
প্লবতা হ্রাস: যখন সমুদ্রের তলদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে গ্যাস নির্গত হয়, তখন পানির ঘনত্ব কমে যায়। এর ফলে জাহাজগুলো তাদের প্লবতা (buoyancy) হারিয়ে মুহূর্তের মধ্যে ডুবে যেতে পারে।
ইঞ্জিন বিকল: নির্গত এই গ্যাস বাতাসের সাথে মিশে নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়া ছোট বিমানের ইঞ্জিনেও গোলযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম।
গবেষকদের মতে, বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল এলাকায় অতীতে এমন একটি ‘সক্রিয় ক্ষেত্র’ (active field) ছিল যা বর্তমানে শান্ত হয়ে গেছে। একারণেই সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সেখানে দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও অতিরঞ্জন
১৪৯২ সালে ক্রিস্টোফার কলম্বাস প্রথম এই এলাকায় অদ্ভুত আলোর কথা জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে চার্লস বার্লিটজের বইয়ের মাধ্যমে এই অঞ্চলটি জনপ্রিয়তা পায়। ১৯১৮ সালে ৩০৬ জন ক্রুসহ ইউএসএস সাইক্লোপস নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি আজও অন্যতম বড় রহস্য হিসেবে বিবেচিত।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন:
ইউএস কোস্ট গার্ডের মতে, বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল কোনো স্বীকৃত ভৌগোলিক বিপদসীমা নয়।
বীমা সংস্থা লয়েডস অব লন্ডন জানায়, এই এলাকায় দুর্ঘটনার হার বিশ্বের অন্য যেকোনো ব্যস্ত সমুদ্রপথের মতোই স্বাভাবিক।
নিনজেল ওয়াটসনের মতো লেখকদের মতে, অনেক ঘটনাকে রহস্যময় করার জন্য অতিরঞ্জিত বা বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
যদিও মিথেন গ্যাসের এই তত্ত্বটি বিজ্ঞানসম্মত এবং আকর্ষণীয়, তবে অনেক বিশেষজ্ঞ একে এখনও অনুমাননির্ভর বলে মনে করেন। যদি এই তত্ত্বটি প্রমাণিত হয়, তবে এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাবে।